বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটীতে দলীয় কোন্দলের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে হত্যার ৫২ ঘণ্টা পার হলেও বুধবার সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আজিজুল হক।
তিনি বলেন, এখনও কেউ অভিযোগপত্র নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলেই মামলা রেকর্ড করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি দুর্বৃত্তদের আটকে পুলিশি অভিযান চলছে।
এদিকে দুই নেতার হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. জামিল হোসাইন। বুধবার দুপুরে মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতা আনছার আলী ও শুকুর শেখকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করেছে তারা খুনি। তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক বা নেতা হতে পারে না। স্থানীয় বিরোধের দায় আওয়ামী লীগ নিবে না। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে। মঙ্গলবার বিকেলে দুই নেতার জানাজায় এমপি মোজাম্মেল হোসেনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও পরিকল্পিত বলে তিনি দাবি করেন।
জামিল হোসাইন বলেন, এই জোড়া হত্যার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এমপি মোজাম্মেল হোসেনও খুনিদের বিচার চাইছেন। খুনি কারা তা তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে। এ পরিস্থিতিতে একটি মহল এই খুনের দায় নির্দোষ ব্যক্তিদের ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অপরদিকে দলীয় কোন্দলে আওয়ামী লীগের দুই নেতা হত্যার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলা তাঁতী লীগ। বুধবার এক শোকবার্তায় বাগেরহাট জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি আলহাজ তালুকদার আব্দুল বাকী বলেন, ‘দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ফকিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আনছার আলী ও শুকুর শেখ নিহত হয়েছেন। দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন শাখার শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবুল শেখ আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যালে আছেন। আমরা তাঁতী লীগ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাই। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
সোমবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী ও আওয়ামী লীগ কর্মী শুকুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এমপি মোজ্জামেল গ্রুপের নেতা দৈবজ্ঞহাটী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফকিরসহ চারজনকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। এই দুই নেতাকে হত্যার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার বিকেলে জানাজার আগে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। এ সময় স্থানীয় এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেন জনরোষে পড়ে জানাজাস্থল ত্যাগ করেন।








