বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে দলীয় কোন্দলের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে হত্যার ঘটনায় ৩১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার (১ অক্টোবর) এ হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ মামলা দায়ের করা হয়। হামলায় নিহত আওয়ামীলীগ নেতা শুকুরের বড় ভাই শেখ ফারুক আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেম এম আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে চার জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন, দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফকির শহিদুল ইসলাম, একই এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে দফাদার আবুয়াল হোসেন ফকির, হাতেম আলীর ছেলে আবুল শেখ এবং করিম ডাকুয়ার ছেলে জুলহাস ডাকুয়া। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ইউপি চেয়ারম্যানের লাইসেন্সকৃত একটি শর্টগান ও শর্টগানের ৩টি কার্তুজ জব্দ করা হয়। এছাড়া চেয়ারম্যানের হেফাজতে থাকা ১টি দেশি রিভলবার এবং রিভলবলের ২ রাউন্ড গুলি, ১টি দেশি ওয়ান সুটারগান, ৩ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ এবং ১টি হাত কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
ওসি কেম এম আজিজুল ইসলাম বলেন, নিহত শুকুরের বড় ভাই শেখ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফকির শহিদুল ইসলামসহ ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার নামীয় আসামীদের আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফকির শহিদুল ইসলামসহ অন্য ৪ আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১ অক্টোবর) বিকালে জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আনছার আলী দিহিদারসহ তিনজনকে প্রতিপক্ষ ফকির শহীদুল ইসলামের লোকজন অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে তাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ কর্মী শুকুর শেখ ঘটনাস্থলেই এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দিহিদার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। একইদিন নিহত আনছার আলীর স্ত্রীকে পিটিয়ে দুপা ভেঙ্গে দেয় সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।








