একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট এখন সুসংগঠিত। ফলে তারা রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। অপরদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়া, দলীয় কোন্দলসহ নানা কারণে হতাশায় ভুগছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা-কর্মীরা। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ ৪টি আসনেই অনেক আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তারা ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে সময় পার করছে। তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে সক্রিয়করণ, ভোট কেন্দ্র কমিটি গঠনসহ নানা সাংগঠনিক কাজ করেই চলেছে প্রতিদিন। অপরদিকে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট থেকে একটি আসনের বিপরীতে দুজন করে প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দুই প্রার্থীই পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দৃঢ় রয়েছেন।
বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট) আসন থেকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে বর্তমান এমপি শেখ হেলাল উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন পান।
অপরদিকে এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আটজন। তাদের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তারা হলেন– জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মুজিবর রহমান ও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা।
বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পার্শ্ববর্তী এই আসন বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবারও এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের জয় হবে– এমনটাই মনে করছেন নেতাকর্মীরা। অপরদিকে বিএনপি দুইজন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে স্বীকার করে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ হয়রানি করে বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া) আসনে বিভিন্ন দলের মোট ২০ জন দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যার মধ্যে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের ছিলেন ১২ জন। তাদের মধ্যে থেকে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীনের ছেলে শেখ তন্ময়কে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকে তারা দলকে সুসংগঠিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
অপরদিকে সম্প্রতি জেলা বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ৬ জন। তাদের মধ্য থেকে দুই গ্রুপের দুই নেতাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। তারা হলেন– জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম। এই দুটি গ্রুপ এখন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। মাঠ না গুছিয়ে তারা বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য এখনও লবিং করছেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের দুটি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। অনেককে পিটিয়ে জখমও করা হয়েছে।’
বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিভিন্ন দলের মোট ২৫ প্রার্থী দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন বর্তমান এমপি হাবিবুন নাহার ও চলচ্চিত্র তারকা শাকিল খানসহ ১০ জন। তাদের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের স্ত্রী বর্তমান এমপি হাবিবুন নাহার তালুকদারকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।
অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন কিনেছিলেন ১৩ জন। এর মধ্যে থেকে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শেখ আবদুল ওয়াদুদ ও বিএনপি নেতা শেখ ফরিদুল ইসলামকে প্রাথমিক দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই আসনে কে হবেন ধানের শীষের প্রার্থী তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন তারা।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে বিভিন্ন দলের ২৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ১৩ জন। এ আসন থেকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি চারবারের নির্বাচিত এমপি বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেনকে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট থেকে মনোনয়ন মনোনয়ন দেওয়া হয়।
অপরদিকে এই আসনে বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ১১ জন। তার মধ্যে জেলা বিএনপির নেতা খায়রুজ্জামান শিপন ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আবদুল আলীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
এসব আসনে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যফ্রন্ট এখনও মাঠ গোছাতে পারেনি– এমনটাই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। অপরদিকে সুসংগঠিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের কাছে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন।








