যশোর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান এমপি কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘যশোরে আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ, কোনও বিভেদ নেই। দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার একসঙ্গে যশোরের ৬টি আসনে নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করতে নিরলস কাজ করে চলেছেন। তাদের এই পরিশ্রম বিফলে যাবে না। এখন কারও কোনও শক্তি নেই যশোরের ছয়টি আসনে নৌকার জয় রোধ করার মতো। বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস, খুন, জঙ্গিবাদের পক্ষে কেউই নেই। দেশবাসী চায় না দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে।’
বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) যশোরে পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক কর্মচারী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বেলা ১১টায় যশোরের কারবালা রোড এলাকায় ওয়াপদা অফিস চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকবান্ধব। তার আমলেই সংশ্লিষ্ট সবার মতামত গ্রহণের মাধ্যমে দেশে শ্রম আইন করা হয়েছে। বেদনাদায়ক কোনও ঘটনার শিকার হলে সেই শ্রমিক বা তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব। শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে তিনি অধিক সচেতন।’
আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রগতি আর সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন চাইলে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে হবে। বাংলাদেশকে পেছনে নিয়ে যেতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত এখন পাকিস্তান এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে মিলে দেশকে অরাজক পরিস্থিতির দিকে নিতে চাইছে। সংসদ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় সে লক্ষ্যে তারা যশোরসহ গোটা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছে। একাত্তরের পরাজিত ওই শক্তি, তাদের দেশীয় ও বিদেশি এজেন্টরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানাতে চাইছে। কিন্তু আমাদের যুব সমাজ অত্যন্ত সচেতন। তারা ওইসব দুরভিসন্ধি দৃঢ়হাতে প্রতিহত করবে।’
গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে, সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে বিস্মিত বিশ্বনেতারা। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের কাছে এই উন্নয়নের রহস্য জানতে চান।আমাদের একটাই উত্তর, শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া মানেই উন্নয়ন। আর এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে তাকেই ফের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক কর্মচারী লীগ সভাপতি আবু কালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মাজহারুল আলম মন্টু, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহসীন আলী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সমাবেশ শেষে দুপুরে যশোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী নাবিল আহমেদ গণসংযোগ করেছেন। তার গণসংযোগ বিশাল মিছিলে রূপ নেয়। চলার পথে বিভিন্ন পেশার মানুষ তার সঙ্গে শামিল হন। শহরের খালধার রোড থেকে শুরু করে কাঠেরপুল হয়ে এইচএমএম রোড, বাজারের ভেতর, দড়াটানা হয়ে গাড়িখানা দিয়ে হাটখোলা রোড হয়ে চৌরাস্তা, সোনাপট্টি হয়ে হাজী আব্দুল করিম রোডে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পথিক, রিকশাচালক, দোকানদার,ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, লিফলেট বিতরণ এবং তাকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
গণসংযোগকালে তার সঙ্গে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম আহমেদ, যুবলীগ নেতা আজহার হোসেন স্বপন, স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা লুৎফুল কবীর বিজু, আনোয়ার হোসেন মুশতাক, ওয়াহিদুজ্জামান বাবলুসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।








