অবশেষে স্থায়ী শহীদ মিনার পেলো নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১৮আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:১৮

 

অবশেষে স্থায়ী শহীদ মিনার পেলো নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর বাঁশের তৈরি নয়, এবার ইট-সিমেন্টে নির্মিত স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই স্বপ্নপূরণ করতে সাহায্য করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবুল কাশেম। গত কয়েকদিন আগেই শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবুল কাশেম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বলেন, ‘প্রতিবছর বাঁশের তৈরি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও প্রকৃত সুখ পাওয়া যেত না। এবার ইট-সিমেন্টে গড়া স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারবো। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছে।’

এদিকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাজেরা, মুন্নি, রাফিদুল ও ইউসুফ খুব খুশি। তারা বলে, আমরা এখন ২১ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায় আছি। ওই দিন স্যার ও ম্যাডামদের সঙ্গে আমরা সবাই শহীদ মিনারে ফুল দেবো।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের নিরক্ষর আবুল কাশেমের (৪৮) ভাষা শহীদদের প্রতি রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা । ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর কালীগঞ্জ শহরে গিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন। সেই সময় থেকেই নিজ গ্রামের স্কুলে একটি শহীদ মিনার তৈরির স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রায় ১৮ বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদে আছি। এবার নিয়ে পরপর দুইবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যালয়ে বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে তাতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছি। নিজের ইচ্ছা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে বাস্তবায়ন করতে এ বছর শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ শুরু করি। শহীদ মিনারের কাজ শেষ করতে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে জমানো ২৬ হাজার টাকা ও বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে সিমেন্ট, বালি নিয়ে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজটি সম্পন্ন করেছি। শহীদ মিনারটি তৈরি করতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বলেন, ‘শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের অনেকদিনের আশা পূরণ হতে চলেছে। এখন অপেক্ষা ২১ ফেব্রুয়ারির।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে বিদ্যালয় পরিচলনা পর্ষদের সহযোগিতায় বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে সেখানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতাম। এবার সভাপতির উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ায় সভাপতি আবুল কাশেমকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ রনি লস্কর বলেন, ‘আবুল কাশেম একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তার এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকায় ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে কোন ওয়ার্ড
ঢাকায় ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে কোন ওয়ার্ড
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের