ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকস্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি উঠতে শুরু করেছে। এছাড়া শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর এবং আশাশুনির প্রতাপনগর ও আনুলিয়া ইউনিয়নে বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে সাতক্ষীরায় ৭ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ফণী শুক্রবার সকালে ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানে। যার প্রভাবে সাতক্ষীরাসহ বাংলাশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
জেলার ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির ১০ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে এসেছেন। ১৩৭টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসা,ইউনিয়ন পরিষদ,উপজেলা পরিষদ খুলে রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ১১৬টি মেডিক্যাল টিম এখন মাঠে রয়েছে। চার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কর্মী বাহিনী,যুব কেন্দ্রের সদস্যরা কাজ করছেন। পৃথকভাবে পুলিশও মাঠে রয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কীভাবে ক্ষতি কম হয় সে বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। ফায়ার ব্রিগেড, কোস্ট গার্ড, আনসার সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। জেলার সব উপজেলায় একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সাতক্ষীরার ১৩০০ জনপ্রতিনিধি তাদের নিজ অবস্থান থেকে ফণী মোকাবিলায় সাধ্যমতো কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল শুক্রবার বেলা ১১ টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন,‘ক্ষয়-ক্ষতি সবচেয়ে যাতে কম হয় সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। সব এলাকায় লাল পতাকা টানিয়ে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করার কাজ চলছে। উপকূলীয় এলাকার অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছেন।’
ফণী থেকে রক্ষা পেতে সাতক্ষীরা বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়ে সতর্ক শুক্রবার সকাল থেকে নির্বাচনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ গুলো পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা -৪ আসনের এমপি জগলুল হায়দার।








