বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজপথে অনাহারী শিশুরা

খুলনা প্রতিনিধি
১৪ মে ২০১৯, ১৩:২৩আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ১৩:৫৯

রাজপথে পাটকল শ্রমিকদের ইফতার


রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে সোমবার ইফতারের সময় এক শ্রমিক পরিবারের তিনটি শিশু কন্যাও অংশ নেয়। এসময়  তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা কিছুই বলতে পারছিল না, শুধু ছলছল চোখে তাকিয়েছিল। তারা কেবল থালায় থাকা একমুঠো ভেজা চিড়া হাত দিয়ে নাড়ছিল আর  কান্না ভেজা চোখে তাকিয়েছিল। সোমবার রাজপথে পাটকল শ্রমিকরা ইফতার করার সময় পরিবারগুলোর এমন অসহায় অবস্থা দেখা যায়। 

তাদের বাবা ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন,‘বাসা থেকে একটি থালা নিয়ে বের হয়েছি। নতুন রাস্তা মোড়ে ইফতারের সময় পাওয়া একমুঠো ভেজা চিড়া মেয়েদের মুখে তুলে দিয়েছি।
একই অবস্থা খুলনার পাটকল শ্রমিকদের প্রত্যেকটি পরিবারের। অনাহারী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চোখের জলে রাজপথ ভিজছে।

শ্রমিকদের ও তাদের পরিবারের লোকদের এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজনের মনের মধ্যেও হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক নাদিম হোসেন বলেন,‘এদেশের নাগরিক হয়ে কাজ করেও মজুরি না পেয়ে অনাহারে থাকতে হচ্ছে। আর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের লোক হয়েও এদেশে খেয়ে পরে বেঁচে আছে।’
এদিকে কর্মবিরতীর ৮ম দিন সোমবার বিকেলেও খুলনা ও যশোর শিল্পাঞ্চলের ৯ পাটকলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিলসহ রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। বিকেল ৩টায় স্ব স্ব মিলগেটে জড় হয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিলসহ নতুন রাস্তা মোড়ে গিয়ে রেলপথ ও রাজপথ অবরোধ করে। একই সময় খুলনার আটরা ও নওয়াপাড়া রাজঘাটেও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে এ সময় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। এ সময় শ্রমিকরা শুধু চিড়া দিয়ে রাজপথে ইফতার সারে ও নামাজ আদায় করে ঘরে ফিরেন। এ সময় নতুন রাস্তা মোড়ে বক্তৃতা করেন শ্রমীকলীগ নেতা সরদার মোতাহার হোসেন, মুরাদ হোসেন ও সোহরাব হোসেনসহ নেতারা।  
পাটকল শ্রমীক লীগ নেতা মো. মুরাদ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত সরকারের কোনও আমলা, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা কেউ তাদের খবর নেয়নি।
উল্লেখ্য,পাটখাত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ ২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচ্যুইটির অর্থ পরিশাধ, চাকুরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারিদের পূর্নবহাল, সকল মিলে সটআপের অনুকুল শ্রমিক-কর্মচারিদের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ ও স্থায়ীকরণসহ ৯ দফা দাবিতে শ্রমিকরা ১৩ মার্চ থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত ৭ এপ্রিল বিজেএমসি থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া মজুরি ও বেতন প্রদানসহ ১৮ মের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর শ্রমিকরা অবরোধ ও কর্মবিরতী স্থগিত করে কাজে যোগ দেয়। ২৫ এপ্রিল এক সপ্তাহ সময় নেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। এরপর ২ মে মজুরি না দেওয়ায় ৫ মে থেকে মিলে উৎপাদন বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে শ্রমিকরা। ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ মে থেকে সারাদেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলে একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম