সাতক্ষীরার মাদ্রাসাছাত্র শাহীনের মাথা ফাটিয়ে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় চক্রের প্রধান নাইমুলসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১ জুলাই) জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, কুপিয়ে নয়, মাথায় আঘাত করে শাহীনকে অচেতন অবস্থায় পাটক্ষেতে ফেলে রেখে ভ্যানটি ছিনতাই করে তারা।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ও ছিনতাইচক্রের প্রধান নাইমুল, সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা বাজারের বারেক আলী এবং কলারোয়ার মির্জাপুর মোড়ের আরশাদ পাড় ওরফে নুনু মিস্ত্রি।
সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান তার কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিফ্রিংয়ে নাইমুলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ২৭ জুন নাইমুলসহ অজ্ঞাত তিন জন গোপন মিটিং করে। পর কিশোর ভ্যানচালক শাহীনকে ফোন করে পরদিন ভাড়ায় কলারোয়ায় যেতে বলে। পরদিন সকালে শাহীন ভ্যান নিয়ে কেশবপুর বাজারে গিয়ে দেখে নাইমুলসহ তিন জন অপেক্ষা করছে। সেখান থেকে তারা ভ্যানে উঠে ধানদিয়া জামতলা মোড়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছে শাহীনকে ভ্যান থামাতে বলে।
এ সময় তারা শাহীনকে ভ্যান দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলে। এ বিষয়ে কিছু বললে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। তবে ভ্যান দিতে রাজি না হওয়ায় তার মাথায় আঘাত করে অচেতন অবস্থায় পাটক্ষেতে ফেলে রেখে যায় তারা। পরে তারা ঝাউডাঙ্গা বাজারে গিয়ে বারেক আলীর কাছে ভ্যানের চারটি ব্যাটারি ও কলারোয়ার নুনু মিস্ত্রির কাছে ভ্যানটি বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নেয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন (শুক্রবার) যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলী মোড়লের ছেলে শাহীন ভ্যান চালাতে বের হয়। এ সময় তার ভ্যানে কয়েকজন যাত্রীবেশে ছিনতাইকারী ওঠে। তাদের নিয়ে কলারোয়ায় যাওয়ার পথে ধানদিয়া গ্রামে শাহীনের মাথায় আঘাত করে তারা। এরপর শাহীন অচেতন হয়ে পড়লে তারা ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় শাহীন ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আমেরিকা প্রবাসী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির পাঠানো ৫০ হাজার অনুদানের টাকা ভ্যানচালক শাহীনের বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ এ টাকা তুলে দেন।
আরও পড়ুন:
ঢামেকে অপারেশন শেষে আইসিইউতে শাহীন








