সাতক্ষীরা জেলার সাত উপজেলার মধ্যে আশাশুনি, দেবহাটা ও তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণ এনএস-১ কিট (পরীক্ষার উপকরণ) ছিল না। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সেই সংকট কেটে গেছে।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজিব সরদার জানান, বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু শনাক্তের ১০টি কিট তারা পেয়েছেন।
আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিক্ল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরুণ ব্যানার্জি বলেন, ‘আশাশুনি উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চল। আমরা খুব ভালো আছি। এখানে কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণ এনএস-১ কিট আমরা পেয়েছি।’ তবে, তিনি কিটের সংখ্যা জানাতে পারেননি।
দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের এখানে ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণ এনএস-১ কিট নেই।’
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ছয় জন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে চার জন ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছে। স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে দুজন। এখানে ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণ কিটের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে।’
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সাত জন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ছয়জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণ কিটের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে।’
এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে ৩৮জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬৮জন এবং অন্যত্র রেফার করা হয়েছে ছয় জনকে। স্থানীয়ভাবে ১০ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। জেলায় ডেঙ্গুজ্বর শনাক্তকরণ কিটের (পরীক্ষার উপকরণ) পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে কিট কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিট কোথায় পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও বলে দেওয়া হয়েছে।’
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুজ্বর বিষয়ে স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমি প্রতিদিনই বিভিন্ন উপজেলায় ভ্রমণ করছি এবং মানুষকে সচেতন করছি। জেলা প্রশাসানের পক্ষ থেকেও দেশের প্রথম ডেঙ্গু মুক্ত জেলা ঘোষণা করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।’








