খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পে ধীরগতি, ব্যয় বেড়েছে ৬৬৫ কোটি টাকা

খুলনা প্রতিনিধি
১৩ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৫৭আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৫৮

খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পে ধীরগতি, ব্যয় বেড়েছে ৬৬৫ কোটি টাকা খুলান ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে নানা কারণে কাজে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে এ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ গত জুনে। যা ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয় ধরা ছিল ৩ হাজার ২৫৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯১৯ কোটি ২৫ লাখ ৯২ হাজার টাকায়। ব্যয় বেড়েছে ৬৬৫ কোটি ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খুলনায় দুশ’ থেকে তিনশ’ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর চায়না এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পিডিবি’র ঋণ চুক্তি হয়। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চুক্তি হয় চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি। আর চুক্তি কার্যকর হয় চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল। ফলে প্রকল্পের নির্মাণ কাজে ধীরগতি দেখা দেয়।
চলতি বছরের ১৮ জুন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা ২ হাজার ৩৭০ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা, জিওবি ১ হাজার ৩ কোটি ৬৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বাকি ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা দেবে পিডিবি। প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বিদেশি আইএলএফ, পোলাস্কা, পোল্যান্ড এবং দেশি ইসিবিএল, বাংলাদেশ লিমিটেড।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল নির্মাণ প্রকল্পের ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক (এসই) প্রকৌশলী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরুজ্জীবিত হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। স্থাপনা ভাঙার কাজ প্রায় শেষ। পাশাপাশি নতুন করে একটি তিনতলা বিশিষ্ট স্কুল নির্মাণ কাজ চলছে। যার তৃতীয় তলার ছাদের ঢালাই শেষ হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাজাহান বলেন, ‘২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করে। প্রকল্প এলাকায় পাইল টেস্টের জন্য বোরিং শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। যা শেষ হয় ৮ অক্টোবর। আর পাইল টেস্ট শুরু হয় ৭ নভেম্বর। পাইল টেস্ট শেষ হয় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি বন্ধ হয় ২০১২ সালের ৩০ নভেম্বর। ধুঁকে ধুঁকে চলা ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিও ২০১৫ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ রয়েছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরের প্রায় ৬২ দশমিক ৫ একর জমির মধ্যে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি প্রায় ১২ দশমিক ৫ একর জমি প্লান্টের জন্য নিয়েছে। বাকি জমির মধ্যে প্রায় ২০ একর জমিতে ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে।
এ প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল নির্মাণ প্রকল্প’। যা গ্যাস বা ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। গ্যাসে চললে এটি থেকে ৩৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এ প্লান্ট স্থাপনের কাজ করছে চীনের ‘কোম্পানি কনসোটিয়াম অব হারবিনং ইলেকট্রিক ইন্টার্যা্শনাল লিমিটেড এবং জিয়ানশু ইটার্ন কোম্পানি লিমিটেড’।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম