কুষ্টিয়ার মিরপুরে অনুষ্ঠিত সাপ খেলার ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী প্রায় ২০টি সাপুড়ে দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি দলকে খেলা দেখানোর জন্য ২০ মিনিট করে সময় দেওয়া হয়। খেলায় নিয়ম করা হয়—সাপের প্রতিটি ছোবলের জন্য এক পয়েন্ট করে কাটা যাবে। যে দলের সপ সবচেয়ে কম ছোবল দেবে সেই দলই বিজয়ী হবে। এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে উপস্থিত হন কয়েক হাজার মানুষ।
সাপখেলা প্রতিযোগিতার তত্ত্বাবধায়ক সাপুড়ে সবুজ আলী জানান, কুষ্টিয়া জেলায় এমন আয়োজন করতে পেরে আমরা খুবই খুশি। এ প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী ও চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায় ২০টি সাপুড়ে দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলেই চার থেকে পাঁচজন সদস্য ছিল। সাপের মধ্যে ছিল—অজগর, কুলিম, মাছিআওলাদ, লাউডগা, দাঁড়াস, বিঝুড়ি, কাটাধনদন, কিং কোবরা ইত্যাদি।
সাপুড়ে সবুজ আরও জানান, ‘সাপুড়ে দল একটি টেবিলের ওপর তার সাপের খেলা দেখান। প্রতিটি দলকে ২০ মিনিট করে সময় দেওয়া হয়। খেলা দেখানোর সময় ওই সাপের প্রতি ছোবলের জন্য এক পয়েন্ট করে বিয়োগ করা হয়। ২০ মিনিটের মধ্যে যার সাপ একটাও ছোবল না দেয়, সেই পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করে। সেই হিসেবে, চুয়াডাঙ্গার বণ্ডবিল এলাকার সাপুড়ে ইসাহকের সাপ কোনও ছোবল না দেওয়ায় তিনি প্রথম হয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সাপুড়ে শাহজাহান ও মিরপুরের সাপুড়ে মারফত আলী।
ভেড়ামারা থেকে আসা সাপুড়ে মুনজিল বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জায়গায় এভাবে সাপখেলা দেখায়। বর্তমানে আমার কাছে বিভিন্ন প্রজাতির ১০টি সাপ রয়েছে। এখানে সাপখেলা দেখাতে পেরে আমি আনন্দিত। ’
মিরপুর উপজেলার কুরিপোল গ্রামের সাপুড়ে দারুল মল্লিক বলেন, ‘প্রায় ৫৭ বছর ধরে সাপখেলা দেখাচ্ছি। সাপের খেলা দেখিয়ে এবং সাপ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি। বর্তমানে আমার কাছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় আটটি সাপ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাপ খেলার এমন আয়োজন যশোর, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা এলাকায় হলেও কুষ্টিয়া জেলায় এই প্রথম। তবে প্রথমবার আয়োজন হলেও মানুষের উপস্থিতি বেশ সন্তোষজনক। এখানে সাপের খেলা দেখতে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় তিন হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। এটি খুবই আনন্দের। পরের বছর আবারও এমন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
একই উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের সাপুড়ে লিটন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন গ্রামীণ মেলায় সাপখেলা দেখায়। এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। আমরা বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়েদের এনে এমন মিলনমেলার আয়োজন এর আগে কখনও হয়নি। সবাই একত্র হয়ে সাপখেলা দেখানোটা অনেক আনন্দের।’








