ভারতীয় পেয়াজ না আসার কারণে খুলনার বাজারে পেয়াজের দামের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা যে যার মত করে দাম হাকছেন। খুলনার বাজারগুলোতে দেশীয় পেয়াজ পাইকারি ৯০-৯৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও খুচরা ৯০ - ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা ৭৫-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে পেঁয়াজ এ দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের এ দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ক্রেতারা মজুদারিকে দায়ি করছেন। দুই দিন আগেও খুলনায় দেশি পেয়াজ ৬০-৬৫ টাকা ও ভারতীয় পেয়াজ ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
খুলনার বড় বাজারের খুচরা বিক্রেতা তাইয়েব শিকদার বলেন,‘তিনি মঙ্গলবার ৯০ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ আর ৮০ টাকা দরে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। সোমবারও তিনি এ দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। তার আগের দিন তিনি দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
খুচরা বিক্রেতা মো. রাশেদ আলী বলেন,‘তিনি দেশি পেঁয়াজ ছোটটা ৯০ টাকা ও বড়টা ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
ক্রেতা হান্নান সরকার বলেন, ‘যে কারণেই হোক পেঁয়াজের দাম লাগামহীন। এটা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।’
ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা ভাষ্কর দেব সাহা বলেন, ‘১৫ দিন আগেও ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছি। ৩ দিন আগে কিনলাম ৭০ টাকা দরে। আর মঙ্গলবার পেঁয়াজ কিনতে হল ৯৫ টাকা দরে।’ কৃত্রিমভাবে পেয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ক্রেতা নিতাই ভৌমিক বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির শিকার। ২ দিন আগে পেঁয়াজ কিনলাম ৭০ টাকায়। ২ দিন পর তার দাম ৯৫-১০০ টাকা। এটা সহ্য করা কঠিন। আমরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছি।’
খুলনার পাইকারি বিক্রেতা পবিত্র ভাণ্ডারের শেখ মো. আজিজ বলেন, ‘আমরা ২ দিন ধরে দেশী পেয়াজ ৯০-৯৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। কিন্তু খুচরা দোকানে আগের কেনা পেঁয়াজ থাকার কারণে তারা ৯০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছে। আর যারা সোম ও মঙ্গলবার পেঁয়াজ কিনেছেন তারা ৯৫-১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
নগরীর বড় বাজারের তানভীর বাণিজ্য ভাণ্ডারের মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি না থাকায় পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।’
মেসার্স তাজ ট্রেডিংয়ের কর্মচারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধের পর খুলনায় পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।’
বড় বাজার এলাকার মেসার্স ফরাজী ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ও আমদানিকারক মো. মিলন ফরাজী বলেন, ‘খুলনায় প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ২০ ট্রাক। সেখানে গত রবিবার খুলনায় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ৩ ট্রাক (৬০ টন)। সোমবার খুলনায় কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এছাড়াও অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই পেঁয়াজ কিনছেন না ’








