খুলনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শয্যা বাড়লেও সেবা বাড়েনি

খুলনা প্রতিনিধি
১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২২আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২২

খুলনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শয্যা বাড়লেও সেবা বাড়েনি খুলনার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী জনবল বাড়েনি। ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৭৫৫টি পদের মধ্যে ৬৪৫টিই শূন্য। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।
খুলনার সিভিল সার্জন এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খুলনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র শয্যার কোনও সমস্যা নেই। এখানে প্রধান সমস্যা জনবল। চিকিৎসক সংকট। নার্স ঘাটতি রয়েছে, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীও অনেক কম। ফলে হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, খুলনা জেলায় বর্তমানে চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ ২ হাজার ১৩৪টি পদের মধ্যে ৭২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে জেনারেল হাসপাতালসহ সিভিল সার্জনের আওতাধীন মহানগরীর অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৮১টি এবং নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৪৫টি পদ শূন্য। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন দু’জন।
চিকিৎসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে সহকারী সার্জন/এমও/ইএমও পদে। এ পদে জেলায় মঞ্জুরিকৃত পদ ৫৪টি। শূন্য আছে ৪৮টি পদ। জেলায় প্রথম শ্রেণির ২৬৬টি পদের মধ্যে ১৯৪টিই শূন্য। তবে নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফসহ দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোতেও সংকট রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ২২৯টি পদের মধ্যে ১৮টিই শূন্য। জেলায় ৩৯০টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১২৭টি।
তৃতীয় শ্রেণির ১ হাজার ৪১টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৯৭টি, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ২১৯টি পদের মধ্যে ১৩৬টিই শূন্য রয়েছে।
আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে দাকোপে ১৯৯টি পদের মধ্যে ৬৮টি, বটিয়াঘাটায় ১৮০টি পদের মধ্যে ৬১টি, রূপসায় ১৭০টি পদের মধ্যে ৫৭টি, তেরখাদায় ১৬৮টি পদের মধ্যে ৭৬টি, দিঘলিয়ায় ১৭০টি পদের মধ্যে ৬৮টি, ফুলতলায় ১৪১টি পদের মধ্যে ৪৪টি, ডুমুরিয়ায় ২৬৭টি পদের মধ্যে ৯২টি, পাইকগাছায় ২৬২টি পদের মধ্যে ৯৫টি ও কয়রায় ১৯৮টি পদের মধ্যে ৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সমস্যায় রয়েছে। ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে মূল্যবান মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তেরখাদা এলাকার আজিজুর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে তেমন কোনও ওষুধ দেওয়া হয় না, বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কেনা লাগে।
স্থানীয় শাহাবুদ্দীন বশির বলেন, জনবল সংকটের কারণে লোকজন কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও চারপাশ অপরিচ্ছন্ন। খাবারের মানও ভাল না।
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সামগ্রীর সমস্যা রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা চলে না। এক্সরে মেশিনটিও না চালানোর কারণে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
গদাইপুর ইউপি মেম্বার আব্দুল হালিম বলেন, এক্সরে মেশিনটি ব্যবহার না করায় ওই কক্ষটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
দিঘলিয়া উপজেলার আব্দুল জলিল বলেন, হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষার জন্য গেলেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং পাশের ল্যাবে যেতে বলা হয়। এক্সরে মেশিন আছে, কিন্তু চালানোর লোক নেই। ডাক্তারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আমপ্রেমীদের জন্য ৬টি ‘স্বর্গরাজ্য’
আমপ্রেমীদের জন্য ৬টি ‘স্বর্গরাজ্য’
বন্ধ শিল্পে প্রাণ সঞ্চারে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ
বন্ধ শিল্পে প্রাণ সঞ্চারে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (৫ জুন, ২০২৬)
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি