ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে সাতক্ষীরার ৪৭ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০ হাজার ঘরবাড়ি। এছাড়াও ১৭টি মাছের ঘের, ১৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন সম্পূর্ণ এবং ১০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসল ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ জায়গায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা আবহওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ঝড় সাতক্ষীরা অতিক্রম করেছে। এখন বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার। মহাবিপদ সংকেতের পরিবর্তে ৩ নম্বর সতর্ক দেখতে বলা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ২৫ হাজার হেক্টর জমির আমন, ১২০০ হেক্টর জমির সবজি, ৫০০ হেক্টর জমির শরিষা, ১২০ হেক্টর জামির পান এবং ২০০ হেক্টর জমির কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে আরও কিছু সময় লাগবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৬ হাজার চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে দেরি হবে।
বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আমার ইউনিয়ন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বাতাসের তীব্রতা এত ছিল যে এখানকার অধিকাংশ গাছ উপড়ে গেছে। কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে এবং ঘরের চালের টিন উড়ে গেছে। চিংড়ি ঘের ও ধানের জমি পানিতে একাকার হয়ে গেছে। শ্যামনগরের রাস্তা থেকে গাছ সরাতে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। শনিবার রাত থেকেই বিদ্যুৎ নেই।’
আরও পড়ুন:
বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা উপকূল
ভোরে উপকূল অতিক্রম করেছে বুলবুল








