যশোরের শার্শা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বাড়ি-ঘরের ক্ষয়-ক্ষতি না হলেও জমির ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান পানির নিচে শুয়ে পড়েছে। ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকের মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে। কয়েকদিন পরেই আমন ধানে গোলা ভরার কথা ছিল কৃষকের। সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল থেকে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া, কায়বা, গোগা, শার্শা ও নাভারনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একই চিত্র চোখে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শুক্রবার দুপুর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত শার্শা এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। আর শনিবার রাতভর বৃষ্টির পাশাপাশি বয়েছে ঝড়ো হাওয়া।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ২১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলনও হয়েছে। কিন্তু দুই দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার সব এলাকায় শতকরা ৭০ ভাগ ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। কোনও কোনও এলাকায় ধান পানির নিচে চলে গেছে।
শার্শার পার্শ্ববর্তী কুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক জয়নাল হক বলেন, ‘দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছি। এখন সব শুয়ে পানির নিচে চলে গেছে। কী করে সারের দাম শোধ করবো, খাবো কী, এই চিন্তাই করছি।’ বেনাপোল ভবারবেড় গ্রামের কৃষকরা বলেন, আমাদের মরণ ছাড়া কোনও পথ নেই।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম কুমার শীল বলেন, ‘বুলবুলের প্রভাবে দুই দিনের বৃষ্টিতে আমন ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৩০ ভাগ ধান মাটিতে শুয়ে গেছে। যদি আর বৃষ্টি না হয়, তাহলে পড়ে যাওয়া ধানের কোনও ক্ষতি হবে না।’ সব ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিন কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানান।








