খুলনা অঞ্চলে বৃষ্টির পর শীত জেঁকে বসেছে। গত ২১ ঘণ্টা টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে এখানে ১৩ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পর ঠান্ডা হওয়া বইছে। সূর্যের আলো না থাকায় শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। এতে করে ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়তে শুরু করেছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে খুলনা অঞ্চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়, যা আজও (শুক্রবার)অব্যাহত আছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার পাইকগাছা, দাকোপ, তেরখাদা ও ডুমুরিয়া এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার এখানকার তাপমাত্রা ছিল সর্বনিম্ন ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদরা জানান, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে আরও একটি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঠান্ডাজনিত কারণে খুলনায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। ওষুধ ও খাবার স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে।’
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে খুলনার আইডি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালসহ ৯ উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার। ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা শিশু হাসপাতালে ৩৭৮ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। গড়ে এ হাসপাতালে দিনে ১৪ শিশুকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সূত্র আরও জানায়, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দাকোপে ৩৩৯ জন, বটিয়ঘাটায় ৫৫৭ জন, রূপসায় ৪২৩ জন, তেরখাদায় ৬১৭ জন, দিঘলিয়ায় ৪৬৫ জন, ফুলতলায় ২১৯ জন, ডুমুরিয়ায় ৫৩৫ জন, পাইকগাছা ৫৭৭ জন ও কয়রা উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩০ জন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া, মীরের ডাঙ্গা আইডিয়াল হাসপাতালে ২৭৩ জন এবং শিশু হাসপাতালে ৩৪৬ শিশুকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।







