নিপাহ ভাইরাসে আতঙ্ক নয়, খেজুরের রস পানে প্রয়োজন সতর্কতা

খুলনা প্রতিনিধি
১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:০২আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৮

 

খেজুরের রস সংগ্রহ করা হচ্ছে

‘নিপাহ ভাইরাস নিয়ে কোনও আতঙ্ক নয়, খেজুরের রস পানে দরকার সতর্কতা’ এ স্লোগানে প্রচারণা চালাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। খুলনা অঞ্চলে গত এক বছরে নিপাহ ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারণার সুফল এটি। তবে, খেজুরের রস পানে সর্বোচ্চ সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও বলছে ‘কাঁচা রস নয়, রস ফুটিয়ে পান করা যায়।’ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারণার সঙ্গে একমত পোষণ করেছে কৃষি বিভাগও। সরকারের এ বিভাগটি বলছে গাছ কাটা থেকে রস নামানো পর্যন্ত গাছের নির্দিষ্ট স্থানটি ছোবড়া দিয়ে ঢেকে রাখার কথা। আর গাছের মাথায় রস নামানোর জন্য দেওয়া নালীটা অনেকটা নিচে নামিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় গাছের নালীটি অনেকটা নিচে নামিয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে ওই গাছে বাদুর বসতে পারবে না।  যা নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন,‘খুলনায় খেজুরের রসের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। এখানকার কাঁচা রস ভাড় ভরে বিক্রি করা হয়। সাধারণ মানুষ যা বেশ আগ্রহ নিয়েই  বিক্রি করে থাকেন। স্বাস্থ্য বিভাগের ৩শ’ কর্মী উপজেলা সদর ও তৃনমূলের জনসচেনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছেন। তারা কাঁচা রস পান না করে ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর খুলনায় এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।’

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় ৩২৪ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এ জেলায় নতুনভাবে ২১ হাজার ২৫০টি খেজুর গাছ লাগানো হয়েছে। এ অর্থ বছরে সাড়ে ১৮ হাজার খেজুর গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি গাছ লাগানো সম্ভব হয়েছে।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সেনপাড়ার গাছী নুরু শেখ জানান, তিনি দিনে ৩০-৩৫টি গাছ কাটতে পারেন। টাকার বিনিময়ে তিনি এ কাজ করেন। তিনি সপ্তাহে ২ দিন কিছু গাছ কাটেন। যা থেকে রসের অর্ধেকটা তিনি পান। গাছ কাটা থেকে তিনি যা আয় করেন তা দিয়ে তার সংসার ভালোই চলে যায়।

তিনি বলেন, ‘আগে তো এ ধরনের ভাইরাস নিয়ে কোনও কথা শুনিনি। বাপ দাদার পেশা ছিল গাছ কাটা। আমি তাই করছি। তবে, এবার কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী গাছ কাটার পর ছোবড়া দিয়ে ঢেকে দিচ্ছি। যাতে করে রাতের বেলা বাদুর এসে নালী বা হাড়ির মুখে বসতে না পারে। আর গাছের ওপরের কাটা স্থানটিও ঢেকে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

বিভিন্ন গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা

তিনি আরও বলেন, ‘রসের বেশ চাহিদা রয়েছে। একদিন আগেই রস বিক্রি হয়ে যায়। লোকজন রস নেওয়ার জন্য আগেই টাকা জমা দিয়ে রাখে।

ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘তার উপজেলায় ৪ লাখ ১৬ হাজার ৯২৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। মৌসুমে প্রতি গাছ থেকে ১০ ভার করে রস পাওয়া যায়। যা থেকে গড়ে আড়াই কেজি হারে গুড় পাওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেনতার বিকল্প নেই। গাছ কাটার পর যাতে বাদুর বসতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গাছের মাথা থেকেও বেশ খানিকটা নিচে নালী টেনে নামানোর জন্য বলা হয়েছে। আর নালী বা ভাড়ের মুখে যাতে বাদুর বসতে না পারে সে জন্য ছোবড়া দিয়ে ঢেকে রাখার জন্য বলা হচ্ছে। সর্বপরি রস ফুটিয়ে পান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজন সতর্ক হওয়া। খেজুরের রস কাঁচা না খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘গত এক বছরে খুলনা অঞ্চলে কোনও নিপা ভাইরাসের সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য  বিভাগ এ ভাইরাস প্রতিরোধে সচেনতা সৃষ্টিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।’

১০ জানুয়ারি থেকে খুলনায় তিন দিনব্যাপী রস মেলা শুরু হয়েছে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘খুলনা ফুড ব্লগার্স, খুলনা উন্নয়ন কমিটি ও নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়াজনে ১০ জানুয়ারি এ রস মেলার উদ্বোধন করা হবে। এই শীতের দিনে মেলার বিভিন্ন স্টলে নগরবাসীর জন্য গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস, দুধ চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, নকশী পিঠা, পাটিসাপটা, ঝাল পিঠা, পুলি পিঠা, সুচি পিঠা, জামাই পিঠা, সেমাই পিঠা, বিবিখানা পিঠা, ছিট পিঠা, দুধ পুলি, ক্ষির পিঠা, ফিরনিসহ অনক পিঠা-পুলির আয়োজন করা হবে। মেলার উদ্বাধন করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক। এ রস মেলা সফল করার জন্য মিজানুর রহমান টিংকুকে আহ্বায়ক, মো. মনিরুজ্জামান রহিমকে প্রধান সমন্বয়কারী এবং মাহফুজকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। রস মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে।

রস মেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. মনিরুজ্জামান রহিম বলেন, ‘খুলনা জিয়া পাবলিক হল চত্বরে ৩ দিনের রস মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এ মেলায় খেজুরের কাঁচা রস থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারণা মাথায় রেখেই নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেলায় ওভেনে গরম করে রস দেওয়ার বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে। আর রস সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম