দালালের মাধ্যমে চাকরি করতে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ঝিনাইদহের দুই যুবক এখন নিখোঁজ। তাদের কোনও সন্ধান পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। তারা হলো- হরিনাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দুল জব্বার ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মামুন। সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কুঠি দূর্গাপুর গ্রামের দালাল মহিউদ্দিন ও তার ছেলে রহিমের খপ্পরে পড়ে তারা নিখোঁজের এ অভিযোগ উঠেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মঈন উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাবিবুর রহমান ও রুহুল আমিনের অভিযোগ, এক বছর আগে আব্দুল জব্বার ও মামুনকে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার জন্য তারা নগদ ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেন মহিউদ্দিনের হাতে। এরপর তাদেরকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। মহিউদ্দিনের ছেলে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রহিম তাদেরকে কাজ দেয়। তারপর তাদের আয় করা টাকা থেকে কমিশন নেওয়া শুরু করে। প্রায় ১ বছর কমিশন নেয় রহিম। একপর্যায়ে তারা কমিশন দেওয়া বন্ধ করে দিলে রহিম তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পাসপোর্ট কেড়ে নেয়। তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাড়িতে স্বজনদেরকে বিষয়টি জানায়। স্বজনেরা মহিউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে। পরে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এলাকায় শালিস বৈঠক হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১ মাসের মধ্যে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও দুটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। লিখিত এ সিদ্ধান্ত উভয়পক্ষই মেনে নেয়। কিন্তু, নির্দিষ্ট সময় পরও তাদেরকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। মালয়েশিয়া থেকে আব্দুল জব্বার ও মামুনকেও ফেরত আনা হয়নি। চার মাস ধরে আব্দুল জব্বার ও মামুনের কোনও খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না।
মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় প্রায় ১৫ জনকে বিদেশ পাঠানোর নামে তাদের সহায় সম্বল বিক্রি করা প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে রহিম মালয়েশিয়ায় আছে। সেখানে সে অনেককে কাজ দিয়েছে। এর আগে কখনও এরকম সমস্যা হয়নি। তবে আব্দুল জব্বার ও মামুনের বিষয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। সমাধানের জন্য আমি চেষ্টা করছি। তারা কোথায় আছে, কীভাবে আছে এখনও জানা যায়নি। আশা করি,মালয়েশিয়ায় থাকা আমার ছেলে রহিমের মাধ্যমে দ্রুত তাদের খোঁজখবর নিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’








