সতর্কতায় করোনা জয় সম্ভব, তবে মেরামত ছাড়া বাঁধের ভাঙন রোধ অসম্ভব

খুলনা প্রতিনিধি
১১ মে ২০২০, ১১:২০আপডেট : ১১ মে ২০২০, ১১:২০

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ১৪ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ এখন করোনা আতঙ্কের চেয়ে বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গোলখালিতে কপোতাক্ষ আর আংটিহারায় শাকবাড়িয়া নদীর ভাঙনের মুখে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ শুকনো মৌসুমেই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, ‘সতর্কতার সঙ্গে ঘরে থাকলে করোনা থেকে রক্ষা বা মুক্তি মিলবে। কিন্তু বাঁধ মেরামত বা নির্মাণ না করলে নদী ভাঙন আটকানো কঠিন।’

কপোতাক্ষ নদের ত্রিমোহনায় গোলখালী মানিক মোল্লার বাড়ির সামনের ১৪/১ পোল্ডারের আওতায় ০ পয়েন্ট নামে পরিচিত এলাকাটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পর গত বছরের ১৪ নভেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মশিউল আবেদীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত  এখানে কোনও কাজ হয়নি। জরুরিভিত্তিক কাজ না করলে পুরা এলাকার ১৪টি গ্রাম লবণ পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার আতঙ্কিত মানুষ জানান, বিভিন্ন সময় বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে কোনোমতে বাঁধটি তারা রক্ষা করেছেন। বর্তমানে অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। ভাঙনের ফলে বাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। যেকোনও সময় এ বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে আশপাশের গ্রাম ও জমির ফসল।

গোলখালী গ্রামের বাসিন্দা বাশার আলী মোল্লা বলেন, কপোতাক্ষের ভাঙনে তার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। বাঁধ ভাঙতে ভাঙতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানি বাড়লে ঘুম নষ্ট হয় এলাকাবাসীর।

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ

স্থানীয়রা জানান, করোনা ভাইরাসে জীবনহানির আশঙ্কার চেয়ে নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন তারা। গত কয়েক বছরের ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছেন এ সব এলাকার পরিবার। তারপরও ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কপোতাক্ষ নদের তীরের বেড়িবাঁধের কোথাও কোথাও মাত্র এক থেকে দেড় হাত মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। অবস্থা এতটাই খারাপ, যেকোনও সময় বেড়িবাঁধটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা। 

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন কবলিত বাঁধ তাৎক্ষণিক মেরামত করে বড় ধরনের ক্ষতি আটকে দিচ্ছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কথা দিয়েও বাঁধের কাজ না করতে পারায় আতঙ্ক কমছে না।       

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আমাদী সেকশন কর্মকর্তা মশিউল আবেদিন বলেন, ‘কপোতাক্ষ নদের ত্রিমহোনায় গোলখালী বেড়িবাঁধের ভাঙন পুরানো। বর্তমানে খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন কবলিত এলাকাটি শেষ সীমানায়। ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি অচিরেই সমাধান হবে।’

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলাবিচার বিলম্বে যত নাটকীয় চেষ্টা সোহেল ও তার স্ত্রীর
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ জানালো তদন্ত কমিটি
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের