সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ২৩ জন মারা গেছেন। তাদের সবারই নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। সেই তথ্যানুযায়ী ২৫ জুন বিকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২২ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন, এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হলেন ১৩৬ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল প্রথম সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হন। এরপর থেকে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৩ জন। খুলনা বিভাগের অপর ৯ জেলায় করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও ২৫ জুন বিকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি এবং কোনও রোগীর মুমূর্ষু অবস্থাও সৃষ্টি হয়নি।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পর্যন্ত তিন হাজার ১৯১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিভাগে মারা গেছেন ৪৮ জন। তবে বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে ৯ জেলাতেই করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও শুধু সাতক্ষীরায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিদের কেউ মারা যায়নি।
সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (সামেক) তত্ত্ববধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৩ জুন সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে ইমান আলী (৫২) ও কলারোয়া উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের মোস্তাফিজ সরদারের ছেলে দাউদ আলী (৫০)।
এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল সামেকে ভর্তি হয়ে ৩০ এপ্রিল মারা যান তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার মনিহার শেনেরগাতি গ্রমের আকরাম মল্লিকের ছেলে ওহাব (৬০)। সদরের শাখরা চৌবাড়িয়ার নূর ইসলামের স্ত্রী তানজিরা (৫২) ১৩ মে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়ে ১৭ মে মারা যান। একই হাসপাতালে ২২ মে ভর্তি হয়ে ২৭ মে মারা যান দেবহাটা উপজেলার ভাতশালার পাটপোতা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে সেলিনা (৫৬), ২৩ মে ভর্তি হয়ে ২৫ মে মারা যান সদরের রইচপুর এলাকার মৃত ইজার আলীর ছেলে আয়ুব আলী (৬৭), ২৬ মে ভর্তি হয়ে ২৯ মে মারা যান সদরের ঘোনা ইউনিয়নের কাছন্দা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে পিয়ার আলী (৩৫), ২৭ মে ভর্তি হয়ে ৩০ মে মারা যান তালা উপজেলার মাঝিআড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে শহিদুল (৬০), ৩ জুন ভর্তি হয়ে একই দিনে মারা যান সদর উপজেলার তালতলা এলাকার রহমত আলীর মেয়ে আকিরন (৪৫), ৭ জুন ভর্তি হয়ে ১১ জুন মারা যান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁকাল এলাকার মাসুদ গণীর স্ত্রী আলেয়া (৩৬), ৮ জুন ভর্তি হয়ে ১৫ জুন মারা যান দেবহাটা উপজেলার টাউন শ্রীপুর এলাকার মৃত ঠাকুর চরণ পালের ছেলে রাধাকান্ত (৭৫), ১১ জুন ভর্তি হয়ে ১২ জুন মারা যান সদরের আগরদাড়ির ইন্দ্রিরা গ্রামের আফসার আলীর মেয়ে শুক্কল বিবি (৮৫), ১৪ জুন ভর্তি হয়ে একই দিনে মারা যান সদরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মৃত মান্দারের ছেলে শাহাবুদ্দিন (৭০), ১৪ জুন ভর্তি হয়ে ১৫ জুন মারা যান সাতক্ষীরা সদরের মাহমুদপুর ভাড়–খালি এলাকার মোজাম্মেল হোসেন স্ত্রী আমেনা (৩৮), ১৮ জুন ভর্তি হয়ে ২২ জুন মারা যান তালা উপজেলার পাটকেলঘাট থানার শাকদহ এলাকার শামছুদ্দিন সরদার ছেলে ইউনুছ আলী (৪২), ১৮ জুন ভর্তি হয়ে ২০ জুন মারা যান কলারোয় উপজেলার পারুলিয়া পানিকেউয়া গ্রামের মোছাদ্দেক সরদারে ছেলে দাউত (৫২), ২০ জুন ভর্তি হয়ে ২১ জুন মারা যান দেবহাটার সখিপুর এলাকার বদর উদ্দিনের ছেলে আহাদ (৩২), ২১ জুন ভর্তি হয়ে ২২ জুন মারা যান সাতক্ষীর সদরের কাউনডাঙ্গা এলাকার ইসমাঈলের ছেলে রোস্তম (৭০), ২১ জুন ভর্তি হয়ে একই দিন মারা যান কলারোয়া উপজেলার হঠাৎগঞ্জের গোয়ালচতর এলাকার মৃত জাহবক্সের ছেলে গেলাম রব্বানী (৬২), ২২ জুন ভর্তি হয়ে একই দিনে মারা যান কালিগঞ্জ উপজেলার তারালীর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে শরিফ (১৩) এবং ২২ জুন সামেকে ভর্তি হয়ে তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মৃত রহমতউল্লাহর ছেলে আনোয়ার (৮৩) ২৪ জুন মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়া সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, সদরের ভোমরা ইউনিয়নের একজন এবং কালিগঞ্জ উপজেলার একজন করোন উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাদের তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নমুনা সংগ্রহ করা হলে করোনা নেগেটিভ আসে।








