কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কঠোর নজরদারি ও নিদর্শনায় ৯ মাস পর পূর্ণাঙ্গ হতে যাচ্ছে খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ রয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দিতে। সে লক্ষ্যে তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ করতে হচ্ছে দুই কমিটিকে। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পেতে ব্যস্ততা বেড়েছে পদপ্রত্যাশীদের।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগে শেখ হারুনুর রশীদকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারীকে সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর আওয়ামী লীগে তালুকদার আব্দুল খালেককে সভাপতি ও এমডিএ বাবুল রানাকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এ চার নেতার নিজ নিজ শাখার কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে থেমে যায় কমিটি পূর্ণাঙ্গের কাজ। এ অবস্থায় গত ২ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর শুরু হয়েছে কমিটি নিয়ে তোড়জোড়।
জানা যায়, কেন্দ্রের নির্দেশনার পর ৭ সেপ্টেম্বর দলের বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় নগরীর ১২ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ, বাকি ৩৪টি ওয়ার্ড কমিটির তালিকা আহ্বান ও মহানগর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ‘ম্যানেজ’ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের আশীর্বাদ পেতে চলছে লবিং। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ও পুরনো নেতাদের সমন্বয়েই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আগে প্রতিটি কমিটি ৭১ সদস্যের হলেও এবার হচ্ছে ৭৫ সদস্যের। এছাড়া, কয়েকজন প্রবীন সদস্য ইন্তেকাল করায় শূন্য পদগুলোতে মূল্যায়ন করা হবে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন না সাবেক নেতারা।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি এত দিনে হয়ে যেতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা থমকে যায়। তিনি বলেন, যারা এত দিন দলের কাজ করেছেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, সংগঠন পরিচালনা করেছেন, তাদের মধ্যে যদি ব্যর্থতা না থাকে তাহলে সেই পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে। তবে যদি কেউ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে পড়েন সে ক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্ব দলে নেওয়া হবে। বিতর্কিত বা সুবিধাভোগীরা ৭৫ সদস্যের নগর কমিটিতে জায়গা পাবেন না।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক সুজিত অধিকারী বলেন, দলের জন্য যারা নিবেদিত, ত্যাগী, পরীক্ষিত তাদেরকে কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে যুদ্ধাপরাধী বা তার পরিবারের সদস্য, বিতর্কিত হাইব্রিড, সন্ত্রাসী বা ২০০৮ সালের পর যারা দলে যোগ দিয়েছেন তারা কমিটিতে আসতে পারবে না।








