যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলভাসী শতাশত মানুষ পানি নিষ্কাশনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে ভবদহে টিআরএম চালু; আমডাঙ্গা খাল সংস্কার; হরি, শ্রী, টেকা, মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে ভৈরবের সংযোগ; ২১ ও ৯ ভেন্টের মাঝ দিয়ে সরাসরি নদী সংযোগ; নদী ও খালের ওপর সব ধরনের পাটা-বাঁধ অপসারণের দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক নিচে নেমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্বস্ত করেন, তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। বেলা ১২টার দিকে ভবদহ অঞ্চলের শ’ শ’ নারী-পুরুষ মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিলিত হন।
অবস্থান চলাকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বলেন, গত তিন মাস ধরে আমাদের অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সমস্যা চলছে। এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের। পানি উঠে এসেছে ঘর-বাড়িতে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে রয়েছে জেলার ৪০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ।
বক্তারা বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে এই অঞ্চলের মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে করোনাকে উপেক্ষা করেই আমাদের রাজপথে থাকতে হবে। প্রয়োজনে আমরা সব ধরনের ভোট বর্জন করতে বাধ্য হবো।
তারা আরও বলেন, ভবদহের সমস্যা প্রায় ৬০ বছরের। ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা লুটপাট ও বাণিজ্য করে চলেছেন। স্থানীয়রা এর থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থায়ী সমাধান চান। এ জন্য সেনাবাহিনীর মাধ্যমে পরিকল্পিত জোয়ারাধার প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পানি বের হওয়ার অন্যতম পথ আমডাঙ্গা খালটি ফের খননের মাধ্যমে প্রশস্ত করার দাবি জানান তারা।
সংগঠনের আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, সদস্য সচিব অধ্যাপক চৈতন্য পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল হামিদ, শেখর চন্দ্র বিশ্বাস, ইলিয়াস হোসেন, সুকৃতি রায়, শিরিন সুলতানা সোহেলী, কার্তিক বকশী প্রমুখ।








