ভেজালমুক্ত খেজুরের পাটালি গুড় উৎপাদনের শপথ নিয়েছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার ৭০ জন গাছি। সোমবার (৯ নভেম্বর) কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে কৃষি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ‘খেজুর গাছিদের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান’-এ হাত তুলে গাছিরা এই শপথ নেন। যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে গাছিদের এ শপথ বাক্য পাঠ করান।
যশোরের পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তার অনলাইন বাজার ‘কেনারহাট’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সহযোগিতা দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিএসপি প্রকল্প-৩। অনুষ্ঠানে গাছিরা হাত তুলে বলেন, ‘আমরা খেজুরের রস-গুড়-পাটালিতে কোনও ধরনের ভেজাল দেবো না। কাউকে ভেজাল দিতেও দেবো না। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
কেশবপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপ-পরিচালক হোসাইন শওকত, উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলাম, ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এসএম আনিছুর রহমান, সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দীন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্ত্তী প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন কেনারহাটের সহ-উদ্যোক্তা নাহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে কেশবপুরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা খেজুর গাছ থেকে নিরাপদ রস সংগ্রহ, গাছ ব্যবস্থাপনা, গুড় তৈরি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গাছিদের প্রশিক্ষণ দেন।
এ সময় তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্যে পূর্ব-পশ্চিম দিক করে গাছ তুলতে হবে। যাতে তোলা অংশে সরাসরি রোদ না লাগে। নিপা ভাইরাস ঠেকাতে রসের ঠিলে (হাড়ি/ভাড়) মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। গুড়ের রঙ পরিস্কার করার জন্যে কোনও ধরনের রাসায়নিক বা চিনি মেশানো যাবে না। গুড়ের আসল রঙ যা তাই রাখতে হবে।’
পরে যশোরের খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কৃষকদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয়। উপকরণের মধ্যে ছিল গাছিদা, ঠুঙি (ঝুড়ি) ও নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে রসের ভাড় ঢেকে রাখার জন্য বিশেষ ধরণের কাপড়।
কেনারহাটের সহ-উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ভেজালমুক্ত পাটালি গুড় গাছিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সংগ্রহ করে অনলাইনের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে পাঠানো হয়। ২০১৮ সাল থেকে গত দুই বছরে অনলাইনের মাধ্যমে সারা দেশের অন্তত সাড়ে ৩ হাজার মানুষের কাছে দেড় হাজার কেজি বিশুদ্ধ পাটালি গুড় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিশুদ্ধ পাটালি গুড় উৎপাদনের জন্যে এ পর্যন্ত ২০০ গাছিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আয়ের একটি অংশ গাছির সন্তানদের লেখাপড়ায় ব্যয় করা হয়। ইতোমধ্যে গাছিদের দরিদ্র ও মেধাবী তিন সন্তানের আজীবন শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে তারা।








