খুলনায় করোনাভাইরাস শনাক্তর হার বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১২টি নমুনা পরীক্ষায় ১১০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৫ শতাংশ। ৭ আগস্ট ছিল ২৪ শতাংশ ও ৬ আগস্ট ২৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এদিকে খুলনার দুইটি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, খুমেকের পিসিআর মেশিনে ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১২৬ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে খুলনার ৩১২টি নমুনা পরীক্ষায় ১১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটের পাঁচ, যশোরের সাত, নড়াইলের দুই, গোপালগঞ্জে এক ও ঝিনাইদহে এক জন।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রূপসার নাছিমা (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩১ জন। তাদের মধ্যে রেড জোনে ৫৯, ইয়েলো জোনে ৩৯, আইসিইউতে ২০ ও এইচডিইউতে ১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ২১ জন। করোনা সংক্রমণ ওঠা-নামা করছে। টিকা গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি। এই সময়ে কোনও রোগী ভর্তিও হয়নি। সুস্থ হয়েছেন দুই জন। চিকিৎসাধীন ২৮ জন। জেলায় করোনা শনাক্ত বেড়েছে। এখন থেকে সচেতন না হলে এবং টিকা কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে চলাচল করলে সংক্রমণ বাড়বে।
শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. প্রকাশ দেবনাথ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন-মোংলার দিগরাজ এলাকার বিশ্বাস আতাউর রহমান (৭৫) ও ঝিনাইদহের ফজলুর রহমান (৬৫)। হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৩২ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে ১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন জন ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন পাঁচ জন।
তিনি আরও বলেন, করোনা শনাক্তের হার বেড়েছে। বর্তমান লকডাউন শিথিল, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, সড়কে চলাচল বৃদ্ধি, গণটিকা কার্যক্রমেও সামাজিক দূরত্ব না মানা, টিকা কেন্দ্রে অবাধে ঘোরাফেরা ও মাস্ক ব্যবহার কমে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৬৩ জন ভর্তি রয়েছেন। আইসিইউতে রয়েছেন ১০ জন এবং এইচডিইউতে তিন জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১১ জন। আর সুস্থ হয়েছেন সাত জন।
গাজী মেডিক্যাল হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কোনও রোগীর মৃত্যু হয়নি। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১ জন। আইসিইউতে চার ও এইচডিইউতে তিন জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন দুই জন। আর নয় জন সুস্থ হয়েছেন।









