পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলার দুবলার চরের রূপারখাল থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত রয়েল বেঙ্গল টাইগারটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাঘটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, পুরুষ প্রজাতির এ বাঘটি লেজসহ ৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থের। বয়স আনুমানিক ১৬ বছর। সবকটি দাঁত সুরক্ষিত রয়েছে। বাঘটির হৃদপিণ্ড, চামড়া, দাঁত, নখ, মাংস ও খাদ্য নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাঘটি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফরেনসিক রির্পোটের পরে নিশ্চিত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বাঘ সাধারণত ১৫/১৬ বছর বেঁচে থাকে। তাই বার্ধক্যজনিত কারণে বাঘটির মৃত্যু হতে পারে।
বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) জানান, ২৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে বন বিভাগের স্মার্ট টহল দল দুবলার রূপারখাল এলাকায় বাঘটি মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। ওই রাতেই বাঘটি উদ্ধার করা হয়। যা রাতেই শরণখোলা রেঞ্জ অফিসে আনা হয়। বাঘটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে গত ২৯ মাসে ৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মৃতদেহ ও একটি চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১৯ মার্চ পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ধনচেবাড়িয়ার চর থেকে একটি, ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কোকিলমনির কবরখালি থেকে একটি এবং ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট কটকা অভয়ারণ্যের ছাপড়াখালি থেকে একটি মৃত বাঘ উদ্ধার করে বন বিভাগ। এছাড়া ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সুন্দরবন সংলগ্ন রাজৈর এলাকা থেকে পাচারকারীদের কবল থেকে একটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করে র্যাব ও বন বিভাগ।









