মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির (৪০ দিনের কর্মসূচি) টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দ্ররিদ্র শ্রমিকদের কাজে তালিকায় নিজের ভাইয়ের নাম দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই চেয়ারম্যান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকারের এই উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
এদিকে, গতকাল বুধবার সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কাজের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদকে মারধর করেছেন চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডলের ভাই কংকন কুমার মন্ডল।
এ বিষয়ে সোহান আহম্মেদ বলেন, তদন্ত করে দেখেছি মিঠাখালী ইউনিয়নের বসিরখন্ড, খানজাহান আলী বাজার ও খড়খড়িয়া এলাকায় ৪০ দিনের কর্মসূচি কাজের ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বসিরখন্ড প্রকল্পের কাজে ৩৩ জন শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও ছিলেন ২৩ জন। খানজাহান আলী বাজার এলাকার প্রকল্পের কাজে ছিলেন ২৬ জন, অথচ থাকার কথা ২৭ জন। খড়খড়িয়া এলাকায় ৩৯ জন শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও ৩৩ জনের উপস্থিতি পেয়েছি।
তিনি বলেন, এসবের পাশাপাশি বসিরখন্ড এলাকার কাজে শ্রমিকের তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই কংকন কুমার মন্ডলের নাম পেয়েছি। কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে বেশি শ্রমিকের টাকা নিয়েছেন চেয়ারম্যান। এসব কারণে শ্রমিক উপস্থিতি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করায় আমাকে মারধর করেছেন কংকন কুমার মন্ডল।
সোহান আহম্মেদ আরও বলেন, ওই তিন প্রকল্পে শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজও করেননি। অধিকাংশ শ্রমিকের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও পায়ে ছিল জুতা। দেখে মনে হয়েছে তারা শ্রমিক নন। ৪০ দিনের কর্মসূচির মাটি রাস্তার পাশে না দিয়ে চেয়ারম্যান উৎপল মন্ডল তার বাড়ির সীমানাপ্রাচীর মজবুত করেছেন। তদন্ত করে এসব প্রমাণ পেয়েছি আমরা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মিঠাখালীর ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল বলেন, এসব তথ্য সঠিক নয়। শ্রমিকদের হাজিরা খাতায় আমার ভাইয়ের নাম আছে কিনা তা জানি না। আপনারা খুঁজে বের করেন। তবে খুঁজতে গিয়ে তার ভাইয়ের নাম পাওয়া গেছে হাজিরা খাতায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার বলেন, প্রকল্পের কাজের ট্যাগ অফিসার সোহান আহম্মেদকে মারধরের বিষয়টি শুনেছি। ওই ঘটনায় চেয়ারম্যানের ভাই কংকন মন্ডল বুধবার রাতে সোহান আহম্মেদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এ সময় চেয়ারম্যান উৎপল মন্ডলও উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও বলেন, ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজে শ্রমিক উপস্থিতি না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাফর রানা বলেন, শ্রমিকদের তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাইয়ের নাম থাকা এবং অর্ধেক শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









