যশোরের অভয়নগর উপজেলায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার অভিযোগে জহিরুল ইসলাম বাবু (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, স্ত্রী কথা শুনতো না। তাদের প্রায়ই ঝগড়া হতো। ক্ষুব্ধ হয়ে দুই মেয়েসহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন।
শুক্রবার (১৫ জুলাই) দুপুরে অভয়নগর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করেন জহিরুল। নিহতরা হলেন—সাবিনা ইয়াসমিন বীথি (৩২) এবং দুই মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও সাফিয়া (২)।
জহিরুল যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মশিয়ার রহমান বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক। হত্যার ঘটনায় রাতে সাবিনার বাবা মুজিবর রহমান বাদী হয়ে জহিরুলের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মামলা করেছেন। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ তাকে আদালতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: বাগানে নিয়ে স্ত্রী ও ২ সন্তানকে হত্যার অভিযোগ
গ্রেফতারের পর জহিরুল পুলিশ জানান, শুক্রবার দুপুরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে ভৈরব নদের নগর খেয়াঘাট পার হয়ে চাঁপাতলা গ্রামে পৌঁছান। তখন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর চাঁপাতলা গ্রামে একটি কলাবাগানের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে স্ত্রীকে পরে দুই মেয়ের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। লাশ বাগানে ফেলে বাড়িতে চলে যান জহিরুল। বাড়িতে ফিরে স্বজনদের কাছে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার কথা জানান। বিকাল ৫টার দিকে স্বজনরা সদর উপজেলার বসুন্দিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফাঁড়ি থেকে পুলিশ গিয়ে জহিরুলকে গ্রেফতার করে।
অভয়নগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিলন কুমার মণ্ডল জানান, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জহিরুল মাদকাসক্ত। স্ত্রী কথা না শোনায় জিদ করে সন্তানসহ হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জহিরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।









