সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে পণ্য লোড-আনলোডসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ট্রাকপ্রতি আনলোড চার্জ চারশ’ টাকা বাড়ানোর দাবি নিয়ে বিরোধে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের জেরে রবিবার (২৮ আগস্ট) সকাল থেকে বন্দরের বন্ধ রয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৭ আগস্ট) রাতে বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চার জন শ্রমিক-কর্মচারী আহত হয়েছেন।
ভোমরা স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ট্রাকপ্রতি আনলোড করতে আগে ৮০০ টাকা দিতেন ব্যবসায়ীরা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা হয়ে আমরা এক হাজার ২০০ টাকা দাবি করি। এই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছিলাম। শনিবার বিকালে কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের গুদামের শ্রমিকদের দিয়ে ট্রাক লোড-আনলোড করার সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারীরা বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে কর্মচারী ইউনিয়নের সাব্বির হোসেন, শ্রমিক দেলওয়ারসহ তিন জন আহত হয়েছে। ট্রাকপ্রতি আনলোড চার্জ এক হাজার ২০০ টাকা করা না হলে শ্রমিকরা কাজ করবে না।’
ভোমরা কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিলন হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফের এজেন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান বলেন, ‘ভারত থেকে আসা গাড়ি থেকে ট্রাকপ্রতি ৮০০ টাকা নেন শ্রমিকরা। গত একমাস ধরে তারা ট্রাকপ্রতি এক হাজার ২০০ টাকা করে দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে শনিবার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বণিক সমিতি যৌথ সভা করে ১১০০ টাকা দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের সিদ্ধান্ত, ১৭২২ ও ১৯৬৪ রেজিস্ট্রেশনের ভোমরা কর্মচারী শ্রমিক সংগঠন মেনে নিয়ে রাতে কাজ শুরু করে। কিন্তু ১১৫৪ ও ১১৫৯ রেজিস্ট্রেশনের ভোমরা কর্মচারী শ্রমিক সংগঠন এক হাজার ২০০ টাকায় অনড় থাকে। আমার কর্মচারীরা কাগজপত্র ছাড় করাতে গেলে শ্রমিকরা তাদের মারধর করে। এই ঘটনার পর আজ সকাল থেকে সংঘর্ষে পণ্য লোড-আনলোডসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কাইয়ুম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি এখন ঘটনাস্থলে আসি। বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সংগঠনের বৈঠকে বসেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’









