কুষ্টিয়ায় মোটর সাইকেলচালক নজরুল ইসলাম ওরফে লতিফকে (৩০) গলা কেটে হত্যায় দুই আসামিকে আমৃত্যু ও এক নারীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ রায় দেন।
আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত দুই জন রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধুনচি গ্রামের মৃত ফয়েজ শেখের ছেলে মজিবর শেখ (৩৭) ও কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকার তোফাজ্জেল আলীর ছেলে ফজলু (৩৫)। একই মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছেন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার উত্তর শ্যামপুর গ্রামের মজনু শেখের স্ত্রী খুশি বেগম (৪৬)।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নজরুল ইসলামকে হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় দু’জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি আজিমকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খুশি বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফজলু ও মজিবর পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই সকালে মোটর সাইকেলচালক নজরুল ইসলাম ভাড়ায় যাত্রী বহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন বিকাল থেকে তিনি নিখোঁজ। পরের দিন ১৭ জুলাই দুপুর ১টার দিকে খোকসা উপজেলার উত্তর শ্যামপুর গ্রামের মাঠে পাট ক্ষেত থেকে মস্তকহীন নজরুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নজরুলের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চুরি করতে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরের দিন ১৮ জুলাই নিহতের বড়ভাই ও রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সজিরদ্দিন শেখের ছেলে বিল্লাল শেখ বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আদালত মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে ৪ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করেন।









