খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনস্রোতে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনও মূল্যে খুলনার সমাবেশ সফল করা হবে।’
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের উসকানিমূলক আচরণ না করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘খুলনা মহানগরীতে ৬০, যশোরে ৪৮, বাগেরহাটে ৫০ ও মাগুরার একটি বাসভর্তি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। পুলিশের গণগ্রেফতার অভিযানে নগরী থেকে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সমাবেশে না যাওয়ার জন্য কঠোর হুমকি দিয়েছে। সমাবেশে গেলে পরিণত অশুভ হবে বলে হুংকার ছাড়ছেন তারা। আমরা ভয় পাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাবেশ বানচাল করতে গোটা বিভাগে ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, বাগেরহাট, নড়াইল থেকে কি বিএনপির নেতাকর্মীরা হেঁটে আসবেন? নদী সাঁতরে খুলনায় আসবেন? এ কেমন মানসিকতা? স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের নারী, পুরুষ ও শিশু বুকের রক্ত দিয়েছিলেন। সেই দেশে এমন পরিস্থিতি হবে কেন?’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বীর মুক্তিযোদ্ধা। গতকাল রাতে তিনি যেখানে অবস্থান করছিলেন, পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ রীতিমতো অপমান করেছে। এমন অপমানের মুখোমুখি তাকে হতে হবে কেন?’
অন্য বিভাগে সমাবেশের অনুমতি প্রদানে প্রশাসন কালক্ষেপণ করলেও খুলনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘খুলনায় অনুমতি চাওয়া মাত্র প্রশাসন তা দিয়েছে। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু তারপর থেকে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে বলবো, যা হয়েছে হয়ে গেছে। এবার এসব বন্ধ করেন। আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিন। উসকানি না দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’
তিনি বলেন, ‘শনিবার দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এই সমাবেশ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। জনদাবির সমর্থনে আন্দোলনে শহীদ পাঁচ সহকর্মী হত্যার বিচারের দাবিতে। এই সমাবেশ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে, দেশনায়ক তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে।’
সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে খুলনা নগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, অব্যাহত হুমকি প্রদর্শন করছে। প্রকাশ্যে রামদা হকিস্টিকসহ অস্ত্রের মহড়া চলছে। মনে রাখতে হবে, এই সরকার শেষ সরকার নয়। এসব কাজের পরিণতি শুভ হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ।









