বর্তমান সরকারের আমলে বিরোধীদলের সমাবেশে কোনও বাধা নেই বলে দাবি করেছেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে সন্ত্রাস ছিল, বিরোধীদলের সভা সমাবেশে বাধা ছিল। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কোনও সভা-সমাবেশে বাধা নেই। বিএনপি গণসমাবেশ শেষে পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ দিয়ে সেটাই প্রমাণ করেছে। এ সময় সমাবেশ ঘিরে একপেশে সংবাদ পরিবেশন করার অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ‘মিথ্যাচার, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার’ প্রতিবাদে খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির মহাসচিব বলেছেন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০টি সিটও পাবে না। তাই আগেই সরে যান, পরে পালানোর পথ পাবেন না। আমি বলতে চাই, জনগণ জানে কোন সরকার গণতান্ত্রিক। বিএনপি কোনও গণতান্ত্রিক দল নয়, তাদের জন্ম সেনানিবাসে। অগণতান্ত্রিক পন্থায় তারা ক্ষমতায় যেতে চায়। আর আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বিএনপি একটা সাম্প্রদায়িক দল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সার্চ লাইটের মতো বিএনপি আমলে নির্যাতন হয়েছে, আইনের শাসন ছিল না। তাদের মুখে এখন এ সব কথা শোভা পায় না। বিএনপি বলেছিল পদ্মাসেতুর ওপর উঠলে তা ভেঙে পড়বে। ফখরুল আপনিতো পদ্মা সেতু পার হয়েই খুলনার সমাবেশে আসলেন। আপনিতো সেতু ভেঙে নদীতে পড়লেন না। কাজেই মিথ্যাচার বন্ধ করুন। গণতন্ত্রের চর্চা করুন। জনতার মতকে সম্মান করুন।
লিখিত বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ আরও বলেন, বিভাগের ১০ জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তাদের পথে কোথাও কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। তবে কয়েকটি স্থানে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তারা নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। সমাবেশের আগে এ অঞ্চলের মালিক-শ্রমিকরা নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তাদের কিছু দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিবহন বন্ধ রাখে। এরসঙ্গে সরকার বা আওয়ামী লীগের কোনও সম্পর্ক নেই।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিএনপির মিথ্যা অভিযোগ, উসকানি ও নানা উশৃঙ্খল আচরণের মুখে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ অনেক ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। তাদের ফাঁদে পা দেয়নি। অবশেষে বিভাগীয় গণসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় এটাই প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বিরোধীপক্ষকে সভা সমাবেশ করতে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার কথা থাকলেও খুলনা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। নগরীর দৌলতপুর এলাকার নতুন রাস্তা মোড়ে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই জন আহত হন- যারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসময়ে একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর শিববাড়ী মোড় টাইগার গার্ডেন হোটেলের সামনে চারটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। এতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আট নেতাকর্মী আহত হন। অথচ এসব সংবাদ অনেক পত্রিকায় আসেনি। একপেশে সংবাদ পরিবেশন করায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি বাবুল রানা, জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারী, সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাবু, মকবুল হোসেন মিন্টু, শ্যামল সিংহ রায়, কামরুজ্জামান জামাল, আশরাফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ আলী, শফিকুর রহমান পলাশ, শেখ ফারুক হাসান হিটলু, নাসিম হোসেন, আসাদুজ্জামান রাসেল প্রমুখ।









