প্রথম দফায় আগামী ২২ মার্চ খুলনার নয়টি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বটিয়াঘাটা অর্ধশত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পদচারণায় মুখরীত। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। কিন্তু একাধিক প্রার্থী নির্ধারণ করা নিয়ে বিপাকে রয়েছে ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগ। সাতটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগেরই প্রার্থী রয়েছে প্রায় ৩০ জন। প্রার্থীরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার পরও বিগত নির্বাচনে দলের একাধিক প্রার্থী থাকায় ৬টি ইউনিয়নে ভরাডুবি হয়। শুধু ব্যক্তি ইমেজে বটিয়াঘাটা সদয় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা মনোরঞ্জন মণ্ডল বিজয় অর্জন করেন। এদিকে ইউপি নির্বাচনে বিজয়ের ধারা অব্যহত রাখতে বিএনপি একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জামায়াতের কোনও প্রার্থী নেই। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় পার্টি।
জলমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মহানন্দ বিশ্বাস, নারায়ন সরকার, ভগোবতী গোলদার, সাবেক ছাত্রনেতা বিপ্লব মল্লিক, যুবলীগ নেতা প্রকাশ রায়, বিধান চন্দ্র রায়, জসিম তালুকদার, বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর গফুর মোল্যা, আশিকুজ্জামান আশিক, ফারুক খন্দকার এবং জাতীয় পার্টির হাওলাদার জাহাঙ্গীর আলম প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা গফুর মোল্যা, আশিকুজ্জামান আশিক এবং আওয়ামী লীগ নেতা মহানন্দ বিশ্বাস, বিধান গোলদার ও প্রকাশ রায়ের অবস্থান ভালো বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।
বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মণ্ডল, মানস পাল, সমীর কুমার সরকার ও এমপিপুত্র পল্লব বিশ্বাস রিটু, বিএনপির একমাত্র প্রার্থী ইমরান হোসেন এবং জাতীয় পার্টির অ্যাড প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস প্রার্থী। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা মনোরঞ্জন মণ্ডল, সমীর সরকার এবং পল্লব বিশ্বাস রিটু তিনজনেরই অবস্থান ভালো।
গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শেখ হাদি-উ-জ্জামান হাদী, রাম প্রসাদ রায়, তুলসী দাস বিশ্বাস, বিএনপির একক প্রার্থী বর্তমান চেয়রম্যান আ. গণি বিশ্বাস ও জাতীয় পার্টির ডা. মো. রফিকুল ইসলাম হালদার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা শেখ হাদি-উ-জ্জামান হাদী ও আব্দুল গণি বিশ্বাস।
সুরখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আ’লীগের পক্ষে খুলনা জেলা সৈনিকলীগের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা এস এম ফরিদ রানা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর, ইউপি সদস্য বিএম মাসুদ রানা, বিএনপির কামরুল ইসলাম সিপার, বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ হেমায়েত আলী, জাতীয় পার্টির প্রভাষক ইলিয়াস গাজী এবং সাবেক ইউপি সদস্য আ. হাদী সরদার। এখানে সাবেক ছাত্রনেতা এসএম ফরিদ রানা ও শেখ হেমায়েত আলী দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থী হিসেবে এলাকায় কাজ করছেন।
ভান্ডারকোর্ট ইউনিয়নে আ’লীগের মাস্টার আবুল কালাম, ওবায়দুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম, বর্তমান চেয়ারম্যান আ’লীগে যোগদানকারী নেতা ইসমাইল হোসেন বাবু, জাতীয় পার্টির মো. শাহিন মোল্যা ও মো. জাকির হোসেন, বিএনপির কবির আকুঞ্জি। এই ইউপিতে ইসমাইল হোসেন বাবু ও অহিদুলের আবস্থান ভালো।
বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে আ’লীগের মসিবুর রহমান, আসাবুর রহমান আসাব, শেখ রাসেল, বিএনপির সেলিম রেজা হাওলাদার, জাফর মলঙ্গী ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম হাসান এবং জাতীয় পার্টির আমিনুল ইসলাম সাদ্দাম। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে গোলাম হাসান ও আবু জাফর মলঙ্গীর মধ্যে।
আমিরপুর ইউনিয়নে আ’লীগের মহিউদ্দীন আহম্মেদ, খলিলুর রহমান, মিজানুর রহমান মিলন, ফুজ্জাত হোসন, মোশাররফ হোসেন, বিএনপির একমাত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান খায়রুল ইসলাম জনি, জাতীয় পার্টির শওকাত হোসেন। সাধারণ ভোটারদের ধারনা ফুজ্জাত হোসন ও খায়রুল ইসলাম জনির মধ্যে লড়াই হবে।
উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ হালদার বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছে, কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিকু বলেন, আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ করেছি, তবে দু-একজন ব্যক্তি ইমেজে নির্বাচন করতে পারে। তাদের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।
/এএইচ/








