আর তিন সপ্তাহ পেরোলেই নতুন বছর। নতুন বছরের দিনপঞ্জির হিসাব রাখতে ক্যালেন্ডার যেন অপরিহার্য। তাই এখন কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পথে-প্রান্তে দেখা মিলছে মৌসুমি ক্যালেন্ডার বিক্রেতার। এসব ক্যালেন্ডারে সরকারি ছুটির তালিকা থাকায় মানুষের কাছে এর বাড়তি চাহিদা রয়েছে। তবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় এখন ক্যালেন্ডার বিক্রিতে লাভ কিছুটা কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে স্থানীয় কুষ্টিয়ার মিরপুর বাজারে কথা হয় ক্যালেন্ডার বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে ক্যালেন্ডার বিক্রির পেশায় জড়িত আছি। বছরের দুই মাস এই ব্যবসা চলে। বছরের অন্যান্য সময় চটি-স্যাল্ডেল বিক্রি করি।’
প্রতিদিন নিজ গ্রাম পাবনার ঈশ্বরদীর শিশারত এলাকা থেকে বাস অথবা ট্রেনে দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যালেন্ডার বিক্রি করতে যান নজরুল। এতে প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর বড় ক্যালেন্ডার যেখানে শতকরা এক হাজার টাকা ছিল, এখন সেটি বেড়ে হয়েছে ১৪০০ টাকা। আর ছোট ক্যালেন্ডার যেটি শতকরা ৬০০ টাকা ছিল, সেটি এখন বেড়ে ৯০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দাম বাড়ায় লাভও কিছুটা কমে গেছে। বর্তমানে ছোট ক্যালেন্ডার খুচরা বিক্রি করছি ১৫ টাকা পিস এবং বড় ক্যালেন্ডার ২০ টাকা পিস।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যালেন্ডারের তারিখ বদলায়, মাস বদলায় কিন্তু আমাদের জীবন বদলায় না। বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম। ক্যালেন্ডার বিক্রি করে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তবু পেটের তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ক্যালেন্ডার বিক্রি করে বেড়াই।’
স্থানীয় মিরপুর বাজারের চা বিক্রেতা নাসির উদ্দীন বলেন, ‘কিছুদিন পরেই আসছে নতুন বছর। এসব ক্যালেন্ডারে নতুন বছরে সরকারি ছুটির তালিকা পাওয়া যায়। যে কারণে আমি প্রতি বছর এই ক্যালেন্ডার কিনি।’








