বেনাপোল স্থলবন্দরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে ৯৪ হাজার ৫০৫ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন পণ্য কম আমদানি হয়েছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৭ মাসে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৪ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করা হয়। আর চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে পণ্য আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ২১৮ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন। বেনাপোল বন্দরের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসজুড়ে দেশে ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। যে কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছিল কম। এছাড়া কাস্টমসের বিভিন্ন হয়রানির ফলে বেনাপোল দিয়ে আমদানি কমতে শুরু করেছে। আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া, প্রতিটি কেমিক্যাল পণ্য পরীক্ষাগারে পাঠানো, দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্নন হয়রানির কারণে আমদানিকারকরা এ বন্দর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে কাস্টম কর্মকর্তারা বলছেন, আগে এই বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ীরা শুল্ক ফাঁকি দিতো, এখন সেই সুযোগ নেই। যে কারণে অনেক ব্যবসায়ী পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
বেনাপোল বন্দরের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে আমদানি পণ্যের পরিমাণ ছিল ৮৩ হাজার ২৯৭ দশমিক ৯৪ মেট্রিক টন, আগস্টে ৯৮ হাজার ২৫১ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন, সেপ্টেম্বরে ৭১ হাজার ৮৬৯ দশমিক ৯৬ মেট্রিক টন, অক্টোবরে ৭৫ হাজার ৪৩৪ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন, নভেম্বরে ৮১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ৭০ মেট্রিক টন, ডিসেম্বরে ৯০ হাজার ৬০৬ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন এবং জানুয়ারিতে ৯১ হাজার ৩৬৮ দশমিক ৪৪ মেট্রিক টন পন্য আমদানি করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য আমদানি করা হয়েছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৪ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন পণ্য।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, আগে বেনাপোল দিয়ে গার্মেন্ট শিল্পের অনেক ধরনের মাল আমদানি হতো। কিন্তু এখন সেসব মাল দেশে তৈরি হওয়ার কারণে এখন আমদানি হচ্ছে না। একইভাবে অন্য পণ্যের ক্ষেত্রে একই অবস্থা থাকার কারণে শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি কম হচ্ছে। এছাড়া বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ক্লিয়ারিং হাউস চালু হলে আমদানি-রফতানিতে আরও গতি ফিরে আসবে। একইসঙ্গে সবার আন্তরিকতা থাকলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের গতিশীলতা যেমন বাড়বে তেমনি সরকারের রাজস্ব আদায়ও বেড়ে যাবে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে খারাপ সময় পার হচ্ছে। যে কারণে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। আবার কাস্টমের হয়রানির কারণেও অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছেন।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার এএফএম আব্দুল্লাহ খান জানান, এ বন্দর দিয়ে এখন শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। যে কারণে সুযোগ সন্ধ্যানীরা পণ্য আনছে না। এছাড়া উচ্চ শুল্কযুক্ত ১৩ হাজার মেট্রিক টন পণ্য কম আমদানি হয়েছে। শুধু বেনাপোলে নয় দেশের বিভন্ন বন্দরগুলোতে পণ্য আমদানি কমে গেছে।
/এআর / এএইচ /আপ-এআর/








