স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার স্বীকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বেনাপোলে কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও ডেপুটি কমিশনার নিতিশ চন্দ্র। প্রতিবাদে কাস্টমসের সব শ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমস ও বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের অফিস কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার প্রতিবাদে কাস্টমসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাস্টমস ও বন্দরের কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি কালো ব্যাজ ধারণ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। এতে বক্তব্য রাখেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। হামলাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বেনাপোল কাস্টমসের পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম জানান, কাস্টমসের নিলাম শাখায় নিলাম আহ্বান করা হলেই স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে তা হাতিয়ে নিতে চান। কিন্তু তাতে কাস্টমস কর্মকর্তারা রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিলেন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় ছাত্রলীগের ১০/১২ জনের একটি গ্রুপ যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে যায়। এক পর্যায়ে তারা কমিশনারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। যুগ্ম কমিশনার তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার ওপর হামলা করা হয়। ডেপুটি কমিশনার নিতীশ চন্দ্র তাদের ঠেকাতে এলে তার ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে হামলার প্রতিবাদে কাস্টমস ও বন্দরে সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বন্দর থেকে সব ধরনের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, নিলামের পণ্য কম দামে হাতিয়ে নেওয়ার জের ধরে ছাত্রলীগের নেতারা যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর হামলা করেছে বলে তারা শুনেছেন। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার এএফএম আব্দুল্লাহ খান জানান, বহিরাগত ১০/১২ জন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কিছু সময় কাজ বন্ধ ছিল। ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের শনাক্ত করে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। সরকারি রাজস্ব আহরণের ব্যাপারে সবাইকে নিয়ে জরুরি সভা করে কাজ করার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপুর্ব হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কাস্টমস হাউসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বেনাপোল বন্দরে সব ধরনের আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে মালামাল বোঝাই ট্রাক আটকে আছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা করা হবে।
/এসএম /এএইচ /








