খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের গত ১৫ বছরে আয় বেড়েছে ২১ গুণ; নগদ অর্থ বেড়েছে ৮৩২ গুণ।
২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এবার তালুকদার আব্দুল খালেক পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ৩০ লাখ দুই হাজার টাকা। নগদ আছে চার কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
তবে ২০০৮ সালের হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। তখন নগদ ছিল ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা ছিল। ওই সময় হলফনামায় পেশা হিসেবে মাছের ঘেরের ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
আয় ও সম্পদের ব্যাপারে মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্য ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। দুইবারের মেয়র। আমার যে আয় ও সম্পদ আছে, এর সব তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছি। প্রতিটি নির্বাচনে আমি সঠিক বিবরণ তুলে ধরেছি। হলফনামায় কোনও ধরনের তথ্য গোপন করিনি।’
২০২৩ সালে খালেকের হলফনামা
বছরে কৃষিখাত থেকে আয় দুই লাখ ১০ হাজার, ব্যাংকের সুদ থেকে আয় দুই লাখ ১৮ হাজার, মেয়রের পারিতোষিক ও ভাতা থেকে আয় ২৫ লাখ ৭৪ হাজার, বাড়ি ভাড়া থেকে আয় এক লাখ ৯১ হাজার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ থেকে আয় ছয় লাখ ৮২ হাজার এবং স্ত্রী উপমন্ত্রীর পারিতোষিক ও ভাতা থেকে আয় ২০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
বর্তমানে খালেকের নগদ টাকা আছে চার কোটি ৭৯ লাখ। চার ব্যাংকে জমা আছে এক কোটি ১৮ হাজার টাকা। ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ১৮ লাখ টাকার পোস্টাল এফডিআর রয়েছে। দুটি গাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি গাড়ির দাম ৪৪ লাখ এবং মাইক্রোবাসের দাম ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার এসি, টিভি, ফ্রিজ ও ওভেনের দাম ৯ লাখ ৯০ হাজার এবং আসবাবপত্রের দাম সাত লাখ টাকা।
স্ত্রী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারের নগদ টাকা আছে ৭৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। চার ব্যাংকে জমা আছে ৯৫ লাখ চার হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৫০ লাখ টাকার। টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার ব্যবহার করেন। সেটির দাম ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বৈবাহিক সূত্রে পেয়েছেন ২৫ ভরি স্বর্ণ।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে খালেক পৈতৃক সূত্রে ২৩ বিঘা কৃষিজমির মালিক। এ ছাড়া ৩ দশমিক ২১ একর কৃষিজমি ও ৩ কাঠা অনাবাদি জমি আছে। যার দাম ২৮ লাখ ২১ হাজার টাকা। জমিসহ একটি বাড়ির অর্ধেক মালিক তিনি, যার দাম দুই কোটি ১২ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে পূর্বাচলে প্লট আছে, যার দাম ২২ লাখ টাকা। এ ছাড়া জমিসহ পাঁচতলা আরেকটি বাড়ির অর্ধেকের মালিক তিনি, দাম ৩১ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংক স্যার ইকবাল রোড শাখায় খালেক ও স্ত্রীর নামে ঋণ আছে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকার।
২০১৮ সালে খালেকের হলফনামা
২০১৮ সালে খালেকের বার্ষিক আয় ছিল ৪১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৫ টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাত থেকে এক লাখ ৩০ হাজার, মাছের ঘেরের খাত থেকে সাত লাখ ৩৯ হাজার ৩০০, ব্যাংক সুদ খাত থেকে আট লাখ ৫১ হাজার ৫৮০, পারিতোষিক ও ভাতা থেকে ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭৫ টাকা। নগদ টাকা ছিল ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
ওই সময় স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯৪ টাকা। ৯ মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে, তখন সবকটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
এ ছাড়া খালেকের নামে তিন ব্যাংকে জমা ছিল দুই কোটি ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৬১৬ টাকা আর স্ত্রীর নামে দুটি ব্যাংকে ছিল ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৪ টাকা। এ ছাড়া এসবিএসি ব্যাংকে দুই কোটি টাকার শেয়ার ছিল। নিজের নামে ১০ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, নিজের নামে ১০ লাখ টাকার ও স্ত্রীর নামে ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৯৪৯ টাকার এফডিআর ছিল। সেইসঙ্গে ১৮ লাখ টাকার পোস্টাল এফডিআর খালেকের। স্বামী-স্ত্রীর গাড়ি ছিল তিনটি।
ওই বছর হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, খালেকের স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈতৃক কৃষিজমি ২৩ বিঘা দেখানো হয়েছিল। অনাবাদি জমি ও পাঁচতলা বাড়ির অংশবিশেষ তার বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া মাছের ঘেরে বিনিয়োগ ছিল এক কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৯০০ টাকা। নগরীর ৩৩ নম্বর মুন্সীপাড়া তৃতীয় গলির বাসা বর্তমান ঠিকানা দেখালেও রামপালের মল্লিকের বেড় জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০১৩ সালে খালেকের হলফনামা
মাছের ঘেরের ব্যবসা অন্যতম আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতি বছর কৃষিখাতে আয় দেখানো হয় ৮৩ হাজার ২০০ টাকা। মাছের ঘেরের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় চার কোটি ৫০ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা। পাশাপাশি তার ওপর নির্ভরশীলদের আয় ৫০ লাখ পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা দেখানো হয়েছিল। পারিতোষিক হিসেবে পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ টাকা ও ভাতা হিসেবে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং স্ত্রী সংসদ সদস্যের পারিতোষিক তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ভাতা হিসেবে ১১ লাখ দুই হাজার ৩৫০ টাকা আয় দেখানো হয়।
তখন অস্থাবর সম্পদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছিল, খালেকের নগদ ৯১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৮ টাকা ও স্ত্রীর নামে নগদ এক কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার ৮৭৩ টাকা, ব্যাংকে নিজের নামে জমা আট লাখ ৭০ হাজার ৭৭ টাকা ও স্ত্রীর নামে ২৬ লাখ ৮১ হাজার ১৫৯ টাকা, শেয়ার-ঋণপত্র-বন্ড নিজ নামে দুই কোটি টাকা, এফডিআর নিজ নামে ১০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ টাকা, পোস্টাল এফডিআর নিজ নামে ১৮ লাখ টাকা, নিজের লেক্সাস গাড়ির দাম ৪৪ লাখ, মাইক্রোবাসের দাম সাত লাখ ৫০ হাজার ও স্ত্রীর গাড়ির দাম ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৫ এবং স্বর্ণালঙ্কার স্ত্রীর ২৫ ভরি উল্লেখ করা হয়েছিল।
স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় কৃষিজমি দেখানো হয়েছিল, পৈতৃক সূত্রে নিজ নামে ২৩ বিঘা, অনাবাদি জমি নিজ নামে ৩ কাঠা (পাঁচ লাখ ৭৯৯ টাকা) ও .০৪৯৫ একর (৮৭ হাজার ৫০০ টাকা), স্ত্রীর নামে .০৪৯৫ একর (৮৫ হাজার টাকা), রাজউক এবং পূর্বাচলে কিস্তি জমা হয়েছে ২২ লাখ টাকা, মাছের ঘেরে বিনিয়োগ নিজ নামে দুই কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা, হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন খুলনা অফিস থেকে স্ত্রীর নামে নেওয়া আছে তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
২০০৮ সালে খালেকের হলফনামা
ওই সময় কৃষিখাত থেকে খালেকের বার্ষিক আয় ছিল ৭০ হাজার টাকা, ব্যাংক আমানত ৯২ হাজার টাকা ও বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ৭০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ছিল এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। নিজ নামে কৃষিজমি আছে ২২ বিঘা, অনাবাদি জমি ৩ কাঠার দাম চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি
স্ত্রীর নামে দশমিক ০৪৯৫ শতক, মূল্য ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। স্ত্রীর নামে জমিসহ পাঁচতলা বাড়ির অর্ধেক।
অস্থাবর সম্পত্তি
নিজ নামে নগদ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা, ব্যাংকে জমা ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮০ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ২৮ লাখ টাকা, গাড়ির (লেক্সাস) দাম ৪৪ লাখ টাকা, মাইক্রোবাসের দাম সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আসবাবপত্র
খাট দুটি, চারটি আলমারি, সোফা ও ডাইনিং টেবিলের দাম ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে নগদ ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা ও ২৫ ভরি স্বর্ণ।
দেনা
তখন হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন খুলনা শাখায় স্ত্রীর নামে সাত লাখ ২৮ হাজার ৩০২ টাকা ঋণ ছিল। ভাইয়ের দেনা ৯ লাখ টাকা। ভাইয়ের স্ত্রীর দেনা তিন লাখ টাকা। খালেকের নামে তিনটি মামলা বিচারাধীন ও তিনটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে ২০০৮ সালে নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।









