যশোর সদরের জোড়াদাহ গ্রামের শামসুর রহমান খোকা হত্যা মামলায় তার ছেলে ও ভাইকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে ছয় জনকে। বুধবার (৩১ মে) দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহতের ছেলে মোশারেফ হোসেন ও ভাই তাহের আলী। ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সাজ্জাদ মোস্তফা রাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১১ মে রাত ৯টার দিকে শামসুর রহমান খোকাকে সালিশের জন্য প্রতিবেশী মেহের আলীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়। এরপর নিখোঁজের ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় জিডি করে তার পরিবার। পরে ২৩ আগস্ট তার স্ত্রী ছায়েরা খাতুন নিজের তিন ছেলেসহ আট জনকে আসামি করে আদালতে গুমের অভিযোগে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
এরপর পুলিশ তদন্ত করে জড়িত সন্দেহে তার ছেলে মোশারেফ হোসেন ও আজগার আলী নামে দুজনকে আটক করে। তাদের মধ্যে আজগার আলীর দেওয়া তথ্যমতে, ২০০১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সবুর্ণমায়া গ্রামের ডা. জিন্নাত আলীর বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ৯ মে নিহতের ছেলে মোশারেফ হোসেন ও ভাই তাহের আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের অভিযোগে আদালতে চার্জশিট দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, খোকা তার নিজ পুত্রবধূ ও ভাবির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করায় হত্যার শিকার হন।
বিচার চলাকালে আজগার আলী মারা যাওয়ায় আট জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক মোশারেফ হোসেন ও তাহের আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন।
রায় শেষে দণ্ডিতদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









