খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটারদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়র পদে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক। তিনি বলেছেন, ‘এ ভোটের ফলাফলে সন্তুষ্ট না। আমি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি।’
মঙ্গলবার (১৩ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
মুশফিকের অভিযোগ, ‘নির্বাচন হয়েছে ইভিএমে। নির্বাচনের আগে এ সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল ভালো। কারণ নির্বাচন কমিশন বার বার আশ্বস্ত করায় বিশ্বাস রেখেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনে দেখলাম এটি একটি ম্যানমেইড মেশিন। যার কন্ট্রোল মানুষের হাতে এবং প্রযুক্তিবিদের কমান্ডে চলে। সফটওয়ারে যেভাবে কমান্ড থাকবে সেভাবেই কাজ করবে। কিন্তু সেই কমান্ড নির্ধারণের মানুষগুলোর সততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা যে কমান্ড রেখেছিল, সে মোতাবেক ভোট হয়েছে।
তার অভিযোগ, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটারদের আশা-আকঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে ভোটারদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। ভোটের ফলাফল ডিজিটাল কায়দায় জালিয়াতি হয়ে গেছে। এটি সাধারণ মানুষের বোঝা সম্ভব নয়। আমি মাঠে দেখছি ২২ শতাংশ ভোটার উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করলো ৪৮ শতাংশ ভোট। এটা কী করে সম্ভব? এ ভোটের ফলাফলে সন্তুষ্ট না। আমি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি।’
মু
শফিক বলেন, এবার নির্বাচনে মেইন স্টিমের গণমাধ্যমকে বোকা বানিয়েছে কথিত সোশ্যাল মিডিয়া। কথিত ইউটিউব টিভি, ফেসবুক ছিল নিযন্ত্রণের বাইরে। সকরার বা নির্বাচন কমিশন তাদের দৌরাতত্ম্য রুখতে পারেনি। এতে অনেক প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড নির্বাচনের সময় ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব খাটানো হয়েছে। কোনও কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাজানো ভিডিও এবং সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যা গণমাধ্যম নীতিমালার ধারের কাছে যায়নি।
‘আমাদের শিশু ও তরুণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে রুচিহীন বার্তা পৌঁছে গেছে। আগামীতে কোনও ভদ্র, সভ্য মানুষ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। আমার কাছে জয়-পরাজয় বিষয় নয়, যেটি সত্য সেটি মেনে নিতে প্রস্তুত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হতাম।’
খুলনাবাসীর জন্য আজীবন কাজ করতে চান বলে জানান মুশফিক। বলেন, ‘একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম করতে যাচ্ছি। যার মাধ্যমে আমার সীমিত সাধ্যের মাধ্যমে খুলনাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে নাগরিক দাবি আদায়, খুলনার সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে চাই। ‘সেভ দ্য পিপল’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করছি আজকের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে। আমরা পরবর্তীতে এর গঠনতন্ত্র, পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ সব কিছু বিস্তারিত জানাব।’









