ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি স্কুলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীর শোক সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনার কথা ছিল ওই বিদ্যালয়ের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের। কিন্তু তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে কাউকে না কিছু জানিয়ে মোবাইল বন্ধ রেখে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নামাজের জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক প্রতিষ্ঠিত সাতুরিয়া এম এম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শফিকুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা গেছে, সাতুরিয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান জামায়াত বা শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যে কারণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীর শোক সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের দোয়া পরিচালনা না করে কাউকে না কিছু জানিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন। ফলে স্কুলের দোয়া অনুষ্ঠান সঠিকভাবে হয়নি, অন্য একজনকে দিয়ে দায়সাড়াভাবে দোয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে ২০ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতুরিয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারি শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান জামায়াত বা শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, ১৫ আগস্ট সকালে পিরোজপুরে গিয়েছিলাম তবে সাঈদীর জানাজায় অংশ নেইনি। এ ছাড়া মোবাইল হারিয়ে যাওয়ায় কারও সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শারীরিকভাবে অসুস্থতার জন্য সকালে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ায় স্কুলে যেতে পারিনি, সকালে এ বিষয়টি ফোন দিয়ে প্রধান শিক্ষককে জানাতে চাইলে তাকে ফোনে পাইনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ রিনা বেগম জানান, কাউকে কিছু না জানিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীর শোক সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি মো. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে তার দোয়া পরিচালনা করার কথা ছিল। তিনি শোক সভায় অংশ তো নেননি এমনকি মোবাইলও বন্ধ করে রেখেছেন। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, এ ঘটনায় তাকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে পেটে ব্যাথা ও ডায়রিয়া হয়েছিল এ কারণে স্কুলে আসতে পারেনি দাবি করে ২২ আগস্ট নোটিশের জবাব দিয়েছে ওই শিক্ষক। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হচ্ছে।
রাজাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা আলম জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









