এলাকায় ডাকাত পড়েছে মাইকে এমন ঘোষণার পর গ্রামবাসীর মারধরে মাসুদ রানা (৪০) নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন আরও চার জন। বুধবার (২৩ আগস্ট) রাতে যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়নের গাইদগাছি গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
তবে, পুলিশ বলছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রাত ২টার দিকে গ্রামের মাইকে কে বা কারা ঘোষণা দেয় গাইদগাছি গ্রামের জুলফিকার গাজীর শ্বশুরবাড়িতে একদল ডাকাত অবস্থান করছে। এই ঘোষণা শোনার পর গ্রামের লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে সেখানে অবস্থান করা ৬-৭ জনকে বের করে মারধর করেন। এতে মাসুদ রানা নামে একজন ঘটনাস্থলে মারা যান। একই ঘটনায় আরও চার জন আহত হন। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বসুন্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে পাশের ইউনিয়ন প্রেমবাগের চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খবর শুনে আজ সকালে ওই গ্রামে যাই। সেখানে জুলফিকারের খালা ও শাশুড়ি তাকে জানিয়েছেন, এলাকায় সমস্যার কারণে গৃহকর্তা কয়েক দিন বাড়ি ছিলেন না। কাল রাতে বাড়ি ফিরেছেন। ওই সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। ডাকাত পড়েছে এই ঘোষণার পর গ্রামের লোকজন বাড়িতে হানা দিয়ে তাদের মারধর করে।
কারা কী কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন- তা বলতে পারেননি প্রেমবাগ ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন।
যশোর কোতয়ালি থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, একদল যুবক গভীর রাতে গাইদগাছি গ্রামের একটি বাড়িতে বসে নেশাদ্রব্য গ্রহণ করছিল। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আরেক দল যুবক তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে পাঁচ যুবক গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাসুদ রানা। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় আহত চার জনকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।









