বঙ্গোপসাগরপাড়ে দুবলার চরের আলোরকেলে শনিবার (২৫ নভেম্বর) থেকে তিন দিনব্যাপী শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান’। রবিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাসপূর্ণিমা পূজা ও সোমবার (২৭ নভেম্বর) ভোরে দিনের প্রথম জোয়ারে সমুদ্রের লোনা পানিতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ঐতিহ্যবাহী রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান।
তবে এবার বিগত ২০০ বছরের ন্যায় সুন্দরবনের আলোরকোলে সব ধর্মবর্ণের মানুষের মিলনমেলা বা উৎসব হবে না। এবার পূজা ও পুণ্যস্নানে যেতে পারবেন শুধু সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
সাগরপাড়ে রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পাঁচটি নৌরুট নির্ধারণ করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ, রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান আয়োজক কমিটির সভায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া নাগরিকত্বের সনদপত্র দেখিয়ে সুন্দরবন বিভাগ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে পাঁচটি নৌরুট মোংলার ঢাংমারী-চাঁদপাই স্টেশন-ত্রিকোনা আইল্যান্ড হয়ে সুন্দরবনের আলোরকোল, শরণখোলার বগী-বলেশ্বর-সুপতি-কচিখালী-শেলারচর হয়ে আলোরকোল, সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক-বাটুলানদী-বলনদী-পাটকোষ্টা খাল-হংসরাজ নদী হয়ে আলোরকোল, খুলনার কয়রা-কাশিয়াবাদ-খাসিটানা-বজবজা-আড়ুয়া শিবসা-শিবসা নদী-মরজাত হয়ে আলোরকোল, নলিয়ান-শিবসা-মরজাত নদী হয়ে আলোরকোল যেতে পারবেন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। একটি নৌযানে সর্বোচ্চ ৫০ জন পুণ্যার্থী যেতে পারবেন।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে যেতে পাঁচটি রুট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে যেতে পারবেন। অতীতের মতো হবে না কোনও উৎসব বা মেলা। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশ নেওয়া কেউ হরিণসহ কোনও প্রকার বন্যপ্রাণী শিকার, খাওয়া, সংরক্ষণ এবং গাছপালা কাটতে পারবেন না।
এ ছাড়া রাসপূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নানে যাতায়াতসহ আলোরকোলে অবস্থানকালে পুণ্যার্থীরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এজন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্টসহ নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।








