পদ্মা সেতু হয়ে যশোর-ঢাকা রেলসংযোগ প্রকল্পে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ দিনে দুবার যাতায়াতসহ মানুষের স্বার্থে কমপক্ষে আরও তিনটি ট্রেনের দাবিতে রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে যশোর রেলস্টেশনে এ কর্মসূচিতে শহরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা রেলপথ অবরোধ করে দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ আটকে দেন। অবরোধের কারণে প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেনটি। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দাবি পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এমন আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে ছয় দফা দাবিতে যশোর রেলওয়ে জংশনে প্রতীকী রেল অবরোধের ডাক দিয়েছিল বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে দুটি ও দর্শনা-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে দুটি ট্রেন চালু করাসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সংগঠনের নেতারা। সে অনুযায়ী আজ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, প্রকল্পের নাম যশোর-ঢাকা রেলসংযোগ প্রকল্প হলেও এই প্রকল্পে যশোরের মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেন ব্যতীত অন্য কোনও ট্রেন যশোর স্পর্শ করে যাচ্ছে না। যশোর রেলস্টেশন হতে ১৩ কিলোমিটার দূরে পদ্মবিলা স্টেশনে গিয়ে যশোরের মানুষকে ঢাকাগামী ট্রেনে উঠতে হবে। এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না যশোরের মানুষজন। রেল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ দিনে দুবার যাতায়াতসহ চুয়াডাঙ্গা দর্শনা এবং যশোরের মানুষের স্বার্থে কমপক্ষে আরও তিনটি ট্রেনের দাবি করেন তারা। একইসঙ্গে এই প্রকল্পের নামে কেনা নতুন বগি ও ইঞ্জিন লাগানোর দাবিও করেন তারা।
অবরোধের খবর পেয়ে যশোর রেলস্টেশনে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলাম। তিনি অবরোধকারীদের বলেন, যশোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে আপনাদের দাবির পক্ষে সবকিছু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমি পাঠিয়েছি। আপনাদের দাবি অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু আমরা চাই না আন্দোলন সংগ্রামের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ুক। আপনাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরে আমি জানিয়েছি। আশা করি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।
পরে জেলা প্রশাসকের অনুরোধে দুপুর দুইটা ২০ মিনিটে অবরোধকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করেন।
বেনাপোলে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান দুপুর ১টায় বেনাপোল এক্সপ্রেস বেনাপোল ছেড়ে যায়। দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে সেটি যশোর স্টেশনে পৌঁছানোর কথা।
রেলপথ অবরোধের কারণে স্টেশনের বেশ আগেই বেনাপোল এক্সপ্রেস দাঁড়িয়ে যায়। এরপর অবরোধকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করার পর ২টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করে।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, ‘যশোর-ঢাকা পদ্মা সেতু লিংক প্রজেক্ট শুরু হলে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের সামনে যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দেয়। আমরা অল্প সময়ে ঢাকায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হলেও প্রকল্পের উদ্বোধনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আমাদের স্বপ্ন তত দূরে সরে যাচ্ছে। প্রকল্প শুরুর হওয়ার আগে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আমরা যশোর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর এলাকার মানুষ প্রতিদিন তিনটি ট্রেন পেতাম। ওই ট্রেনগুলো যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করতো। বিগত সরকারের সময়কালে ওই রুট থেকে দুটি ট্রেন রাজবাড়ী-ভাঙ্গা পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করছে। গত মে-জুন মাসে আমরা জানতে পারি, যশোর-ঢাকা পদ্মা সেতু লিংক প্রজেক্ট শুরু হলে খুলনার ট্রেনগুলো যশোরে আসবে না। খুলনা থেকে সিঙ্গিয়া স্টেশনের পর ট্রেনগুলো গতিপথ পরিবর্তন করে ঘুনি, রাধানগরের (পদ্মবিলা স্টেশন) ওপর দিয়ে নড়াইল পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়া আসা করবে। যশোর দিয়ে মাত্র একটি ট্রেন (বেনাপোল এক্সপ্রেস) যাতায়াত করবে। মোবারকগঞ্জ-কোটচাঁদপুরবাসী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য একটি ট্রেনও পাবে না। আর যশোরবাসীকে ১৯ কিমি দূরে বাঘারপাড়া উপজেলার রাধানগরে গিয়ে ঢাকার ট্রেন ধরতে হবে। যা আমাদের জন্য ভোগান্তি।
অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, বাসদ নেতা হাচিনুর রহমান, সিপিবি নেতা অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও ব্যবসায়ী নেতা মহিদুল ইসলাম প্রমুখ।









