কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মিটন বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটেছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মজনু (৫৫), শ্রীরামপুর গ্রামের জুলমত মণ্ডলের ছেলে রেজাউল (৪৫), বুরাপাড়া গ্রামের খোদা বক্সের ছেলে ওহিদুল (৪০), একই এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), হালসা গ্রামের মৃত আফছার মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন (৬০), একই গ্রামের মৃত ছাদেক আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৫৫), মিরপুর পৌরসভার মোশারফপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইউনুচ আলী (৪৬), বুরাপাড়া গ্রামের ইউসুফ মণ্ডলের ছেলে নাসির (৫৬) একই গ্রামের ওয়াজ আলীর ছেলে ইউনুচ মোল্লা।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাদের কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ও মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মিরপুর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, মিরপুর উপজেলার মিটন বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে আমলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মকলেসুর রহমান মুকুল এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রাশেদ মাহমুদ নাসিরের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রবিবার উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১২ জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং ৬ জনকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য মুকুলের ওপরে চাপ সৃষ্টি করছিল নাসির। এ নিয়ে বিরোধের জেরে শনিবার রাতে মুকুলকে হুমকি দেয় নাসির। এরই প্রতিবাদে রবিবার বিকেল ৩টার দিকে বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এ সময় নাসিরের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা সেখানে লাঠিসোঁটা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
সংঘর্ষের বিষয়ে জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মিরপুর এবং কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকে ফোন দেওয়া হলেও তারা কোনও কথা বলেননি।









