কুষ্টিয়ায় ইউপি নির্বাচনে ‘নৌকার’ প্রতিপক্ষ আ. লীগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
২৫ মার্চ ২০১৬, ১৯:৪১আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৬, ২০:১৯

কুষ্টিয়া দ্বিতীয় দফায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকায় আওয়ামী লীগই এখন নৌকার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা যায়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামতে দেখা গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ফলে মাঠ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ দলীয় সাধারণ নেতাকর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের মনোনীত করে তাদের হাতে নৌকা তুলে দেওয়া হয়। মনোনীত প্রার্থীরা হলেন  চিলমারী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ। তিনি প্রতিদ্বন্দিতা করছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। এখানে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শেলি দেওয়ান নামে এক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতায় নেমেছেন বলে জানা যায়।
ফিলিপনগর ইউনিয়নে জনবিচ্ছিন্ন ও দলীয় পরিচয়হীন একেএম ফজলুল হক ওরফে ফজু কবিরাজ নামে এক ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। যার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকার সাধারণ নেতাকর্মী ও ভোটাররা। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শামসুল আলম নামে আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থী, এমনটাই জানা গেছে।
মরিচা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন শাহ আলমগীর। এখানে জোয়াদুর রহমান জজ নামে এক আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। পিয়ারপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন আবু ইউসুফ লালু। তাকে পরাজিত করার জন্য নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম।
রিফায়েতপুর ইউনিয়নে জামিরুল ইসলাম বাবুর হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া হলেও তাকে পরাজিত করার জন্য আব্দুর রশীদ বাবলু নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

আড়িয়া ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে সাইদ আনছারী বিপ্লবকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলে এলাকার আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা তারিক আল মামুনকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে নির্বাচনের মাঠে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

বোয়ালিয়া ইউনিয়নে মহিউদ্দিন বিশ্বাস মহি নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতায় থাকলেও তাকে হারাতে আবু আফফানসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল হোসেনকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলেও সাবেক সাংসদ আফাজ উদ্দিন আহমেদের আশীর্বাদপুষ্ট গোলাম জাকারিয়া ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

মথুরাপুর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা সরদার হাসিমুদ্দিন হাসু নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হলেও তাকে হারানোর জন্য দেওয়ান হাফিজুর রহমানকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

দৌলতপুর সদর ইউনিয়নে মহিউল ইসলাম মহি নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করলেও তাকে হারাতে মাঠে রয়েছে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামে আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থী।

প্রাগপুর ইউনিয়নে আশরাফুজ্জামান মুকুল মাস্টার নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করলেও তার মূল প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম। তবে রামকৃষ্ণপুর, হোগলবাড়িয়া ও খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় ওইসব ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

ইউপি নির্বাচন-২০১৬ এদিকে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী তার সোনাইকুন্ডিস্থ বাসভবন চত্বরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ডেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ ও নির্দেশ দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা ‘অজানা ইশারায়’ নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দিতায় রয়েছেন বলে জানা যায়।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীক পাওয়া চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ আহমেদ জানান, দল তাকে নৌকা প্রতীক হাতে তুলে দিয়েছে, অথচ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে শেলি দেওয়ান চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তবে নৌকার বিজয় হবেই বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিফায়েতপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক প্রার্থী জামিরুল ইসলাম বাবুও একই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নৌকার বিজয় ঠেকাতে আব্দুর রশীদ বাবলুকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করালেও সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীরা তাকে প্রত্যাখান করেছে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে আগামী ৩১ মার্চ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দলের প্রার্থীরা প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ ব্যাপারে সাবেক সাংসদ আফাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কতিপয় কর্মী আওয়ামী লীগের নাম ভেঙে অপপ্রচার করছে। আমি নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করে চলেছি।

/এইচকে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম