যশোরের ঝিকরগাছায় ঘটেছে একেবারে সিনেমার মতো ঘটনা। চিকিৎসা নেওয়ার জন্য আর কারও অপেক্ষা না করে নিজেই হেঁটে পশু হাসপাতালে হাজির হয়েছে এক আহত হনুমান!
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে হঠাৎই ঢুকে পড়ে আহত হনুমানটি। উপস্থিত সবাই প্রথমে হতবাক—কারণ হাসপাতালের নিয়ম-কানুন না জেনেই সে সোজা গিয়ে বসে পড়ে চিকিৎসা শেডের একটি টেবিলে, যেন বলছে- “ডাক্তার সাহেব, আগে আমারটা দেখেন!”
হাসপাতালের চিকিৎসকরাও অবাক। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আখতার এবং প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহমান শেখ গিয়ে হনুমানটির চিকিৎসা শুরু করেন।
ডা. মাসুমা আখতার জানান, সম্প্রতি কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হনুমানটির শরীরের পেছনের অংশে আঘাত করে। আহত অবস্থায় প্রাণীটি নাকি চিকিৎসার খোঁজে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এর আগে নাকি সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানাতেও একবার ভিজিট দিয়ে এসেছে!
হাসপাতালে ঢোকার পর হনুমানটি অদ্ভুত আচরণ করে। সে ফার্মেসি কক্ষে ঢুকে ওষুধের বোতল খুলে গন্ধ নেয়, আর কিছু খাওয়ারও চেষ্টা করে—যেন নিজেই বুঝে নিতে চাইছে কোন ওষুধটা তার জন্য ঠিক!
তবে আসল চমক ছিল চিকিৎসার সময়। ব্যাথা আর ভয় না পেয়ে হনুমানটি একেবারে শান্ত হয়ে যায়, যেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রোগী। চিকিৎসকরা ক্ষতস্থানে ভায়োডিন দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হনুমানের চিকিৎসা নেওয়ার ছবিগুলো ইতোমধ্যেই ভাইরাল। নেটিজেনদের কেউ অবাক, কেউ মুগ্ধ, আর কেউ বলছেন, “এই হনুমান তো মানুষকেও হার মানায় হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রে!”
ডা. মাসুমা আখতার বলেন, হনুমানটির আচরণ ছিল বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের মতো। মনে হচ্ছিল সে নিজেই বুঝিয়ে দিচ্ছে, “আমার চিকিৎসা দরকার, দেরি না করে দেখেন!”









