গভীর নলকূপ কোথাও কার্যকর হয় না। বিভিন্ন এলাকায় নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েও সফলতা আসে না। এমন অবস্থার মধ্যে ৩ বছর আগে পশ্চিম বাজুয়ায় ৬৫৫ ফুট গভীরের একটি নলকূপ স্থাপিত হয়। যা এখন আশপাশের ৭টি গ্রামের কুড়ি হাজার লোকের চাহিদা মেটাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে নসিমন ভরে এখান থেকে পানি নিয়ে যায়। প্রায় ২ লাখ মানুষের উপজেলায় এই একটি মাত্র গভীর নলকূপের ওপর দিন দিন চাপ বাড়ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে ভীর লেগেই থাকে। চাপ কমাতে মূল কলের পাইপের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে আরেকটি কল স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। এখানে গভীর নলকূপটি বসানোর জন্য ১০৫০ ফুট পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল।
পশ্চিম বাজুয়ার শ্যামল কান্তি বিশ্বাস দাকোপে সুপেয় পানি সঙ্কট পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই জানালেন। তারই জমির এক কোনে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই গভীর নলকূপটি স্থাপন করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, পশ্চিম বাজুয়া, কাকড়া বুনিয়া, ভেদলা বুনিয়া, সাহেবের আবাদ, চুনকুড়ি, কচা এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস হলেও ২০ হাজার মানুষ এখান থেকে পানি নেয়।
এছাড়া দাকোপ বাজারের অদূরে রয়েছে লবণাক্ততা দূরীকরণ প্লান্ট। সেখান থেকে প্রতিদিন বিকালে স্থানীয়দের বিনামূল্যে সুপেয় পানি দেওয়া হয়। কিন্তু এখান থেকে পানি নেওয়ার জন্য লোকজন ভোর থেকে পাত্র নিয়ে লাইন দিয়ে থাকে। এমনই জানালেন স্থানীয় নিবাসী রশিদা বেগম।
কচা এলাকার বাসিন্দা উদয় চন্দ্র কবিরাজ বলেন, শিব পূজা উপলক্ষে ৩দিনে পাঁচ হাজার লিটারের বেশি সুপেয় জল দরকার হয়। প্রতিদিন সাত হাজার লোকের জন্য এই জলের মজুদ রাখা প্রয়োজন। আগে পুকুর থেকে এই জল সংগ্রহ করতে হতো। কিন্তু এখন পুকুর থেকেও ভাল জল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পশ্চিম বাজুয়ার এই গভীর নলকূপে এসে ড্রাম ভরে নসিমনে করে জল নিতে হয়।
দাকোপ থেকে এখানে আসা দেবকি মণ্ডল জানান,তিনি তিন দিনের জন্য নসিমনে করে একটি বড় ড্রাম ও চৌদ্দ কলস পানি নিয়ে যান। যা দিয়ে একটি হোটেল ও ঘরের জলের চাহিদা মেটানো হয়।
অধিকাংশ নলকূপই অকেজো হয়ে আছে। আর সচল নলকুপে পানি উঠছে না। এমন অবস্থার মধ্যে লোকজন মাইলের পর মাইল হেঁটে কলসিতে করে, আবার কেউ কেউ ভ্যান, ট্রলার ও নৌকায় করে পানি সংগ্রহ করছে। কাকডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করছে।
কামারখোলা ইউপি মেম্বর আব্দুস সত্তার সানা বলেন, এখন নদীর জল লবণাক্ত। হাতে গোনা কয়েকটি পুকুরের সামান্য জল রয়েছে। তাও শ্যাওলা যুক্ত এই পানি দিয়ে কেবল রান্নার কাজ চলে।
কাঁকড়া বুনিয়া গ্রামের কমরউদ্দিন গাজী বলেন, আমরা খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান চাই না, বেঁচে থাকার জন্য কোনও রকমে একটু বিশুদ্ধ খাবার পানি চাই।
দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন বলেন, বছরের প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস এলাকাসী খাবার পানির জন্য করে। এই এলাকার মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানি হিসাবে বৃষ্টির পানি ও পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিদিনই পেটের পিড়া, ডায়রিয়া, আমাশাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এই এলাকার মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বহিঃবিভাগে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপত্র দিতে হচ্ছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অনেকে ভর্তি করা হচ্ছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন,এ উপজেলায় গভীর নলকুপ কার্যকর নয়,তাই সারা বছরই এলাকাবাসীকে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং প্লান্ট ও পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করে।
/জেবি/টিএন/
/আপ: এইচকে/








