খুলনার দাকোপে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অপহরণ ও লাশ গুমের মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ। মামলাটি করেন কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক রবিন্দ্র নাথ মণ্ডল।
গত ১৯ মার্চ দায়ের করা এই মামলার আসামিরা হলেন, খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ননী গোপাল মণ্ডলসহ ৩২জন। গত ৬ এপ্রিল ওই মামলার আসামিরা আত্মমর্পণ করে জামিন চাইলে খুলনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
কারণ ওই দিন নিখোঁজ ব্যক্তির বোন কাজল লতা গাইন আদালতে হজির হয়ে জানান, যে ব্যক্তিকে অপহরণ ও গুমের জন্য মামলা করা হয়েছে সেই সুভাস তার আপন ভাই। তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং তিনি ভালো আছেন। পরিবারের সদস্যরা মামলার বাদী রবিন্দ্র নাথ মণ্ডলকে চেনেন না বলেও দাবি করেন। এ সময় তিনি সুভাষের বড় ভাই কৃষ্ণ পদ গাইনের নোটারি করা একটি লিখিত অ্যাফিডেভিডও আদালতে দাখিল করেন। এরপর বিচারক আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন:
তাজুল হত্যা মামলায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
উল্লেখ্য সুভাষ গাইনের (৪৫) খুলনার দাকোপে জন্ম। এরপর চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া,বারাসাতে বসবাস। পরে সেখানেই বিয়ে করেন এবং তার ১৪ বছরের এটি ছেলে রয়েছে। মাঝে মাঝেই তিনি নিজ এলাকায় বেড়াতে আসেন। সর্বশেষ ৩ বছর আগে কৈলাশগঞ্জের নিজ গ্রামে এসেছিলেন। তিনি স্থানীয় যতীন্দ্র নাথ গাইনের ছেলে। ইউপি নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের আগে তার দেশে আসার কথা ছিল। তবে পরিবারের সদস্য ও এলাকায় লোকজন কেউ তাকে ওই সময় এলাকায় দেখেনি বলে জানা যায়। কিন্তু ওই সময় তাকে অপহরণ করে লাশ গুম করা হয়েছে উল্লেখ করে দাকোপ থানায় মামলা করেন রবিন্দ্র নাথ মণ্ডল। তবে সুভাষের ভারতে থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশিরা।
তবে বাদী রবিন্দ্র নাথ মণ্ডলের জানান, ঘটনার দিন সুভাষ তাদের সঙ্গেই ছিল। ঘটনার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। মামলার বিষয়ে সুভাষের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কথা বলেননি। কারণ সুভাষের পরিবারের সদস্যদের তিনি খুব ভালোভাবে চিনেন না। সুভাষ যদি ভারতেই থাকে এবং ওরা জানে তাহলে তারা তাকে এনে দিক বলে তিনি জানান।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, প্রথম দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে ১৮ মার্চ রাতে ৪০০ থেকে ৫০০ জন লোকসহ ননী গোপাল কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মিহির মণ্ডলকে হত্যার উদ্দেশে নির্বাচনি অফিসসহ অফিস সংলগ্ন রবিন্দ্র নাথের বাড়িতে হামলা করে। ওই সময় মিহির বাড়িতেই ছিলেন। হামলার সময় ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তাদের হামলায় রবিন্দ্র নাথসহ কয়েকজন আহত হন। আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় মিহির মণ্ডলের নিবাচন কর্মী সুভাষ গাইনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বাদী ধারণা করছেন সুভাষকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে। এই মামলার পর থেকে দাকোপে সাবেক সাংসদ ননী গোপালের সহযোগীরা আত্মগোপন করে আছেন।
আরও পড়ুন:
ফুল ভাসিয়ে বিজু উৎসব শুরু
আওয়ামী লীগ নেতা ননী গোপাল ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ সময় তিনি কৈলাশগঞ্জ ই্উনিয়ন থেকে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নিবাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পরাজিত হন। এরপর আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় দাকোপে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিহির মণ্ডলকে সমর্থন না দিয়ে ওয়াকার্স পার্টি থেকে মনোনিত গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়কে সমর্থন দেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
/জেবি/







