যশোরের নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ফাতেমা আক্তার বর্ণার (২৮) লাশ ৩০ ঘণ্টা পর ভেসে উঠেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ভৈরব নদের ‘ভৈরব সেতুর’ নিচে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নওয়াপাড়ার সরদার মিল-সংলগ্ন মালোপাড়া ঘাটে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন বর্ণা। তিনি অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে ও ঢাকার মিরপুরের রবিউল আলম খানের স্ত্রী। বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে ভাই, বান্ধবী ও স্বজদের সঙ্গে গোসলে নেমেছিলেন।
নওয়াপাড়া নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নওয়াপাড়ার ভৈরব ব্রিজের ওপারে স্থানীয় লোকজন নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের কোনও অভিযোগ না থাকায় উদ্ধারের পরে লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের পর গত দুই দিন ধরে স্থানীয় নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন। এমনকি স্থানীয় জেলেরাও নদীতে জাল ফেলে তল্লাশি করেছেন। এরপরও না পেয়েও দ্বিতীয় দিনের মতো তল্লাশি শেষ করা হয়। এর মধ্যে সন্ধ্যায় লাশটি এত কিলোমিটার দূরে ভেসে ওঠে।’
ওসি আরও বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূরের ভৈরব ব্রিজ এলাকায় লাশটি ভেসে ওঠে। অথচ ডুবুরি ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েছে। তবু সন্ধান পায়নি। হয়তো লাইটার জাহাজ ও কার্গো জাহাজের নিচে আটকে ছিল লাশ। পরে যখন ফুলে-ফেঁপে উঠে তখন ভেসে ওঠে। এরপর সেটি ভাসতে ভাসতে সেতু এলাকায় ভাসমান কচুরিপানায় আটকে যায়।’
মালোপাড়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বর্ণার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়। লাশ উদ্ধারের পর হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন বাবা ও ভাই। এ সময় বর্ণার স্বামী রবিউল আলমও কেঁদেছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, বর্ণার মা বেঁচে নেই। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন বর্ণা। চার বছর আগে পারিবারিকভাবে ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা রবিউল আলম খানের সঙ্গে বিয়ে হয়। স্বামী চাকরির সুবাদে তারা মানিকগঞ্জে বসাবস করতেন। এই দম্পতির এখনও সন্তান হয়নি। চলতি মাসের ৯ তারিখে বর্ণা বাবার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে প্রতিদিনই নওয়াপাড়ার এই ঘাটে স্বজনদের সঙ্গে গোসল করতে আসেন। গোসল শেষে বাড়িতেও চলে যেতেন। কিন্তু শুক্রবার গোসলে এসে আর বাড়িতে ফেরেননি।
বর্ণার ছোটভাই মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার বর্ণা, তার এক বান্ধবী, ফুফুসহ ছয় জন ঘাটে গোসলে আসেন। তখন জোয়ার চলছিল। সবাই গোসলে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ লাফ দিচ্ছিলেন, কেউ সাঁতার কাটছিলেন। বর্ণাও দুবার গাছের গুঁড়ির ওপর থেকে লাফ দেন। পরের বার লাফ দিয়ে আর পানি থেকে ওপরে উঠতে পারেননি। সবাই যে যার মতো গোসলে ব্যস্ত থাকায় বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে বর্ণাকে না পাওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। শেষে ৩০ ঘণ্টা পর তার লাশ ভেসে উঠলো।

বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে নদীতে ডুবে নিখোঁজ, সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলেনি সন্ধান
২৭ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি বর্ণার, নদীর পাড়ে বসে কাঁদছেন বাবা







