নববর্ষকে বরণ করতে প্রস্তুত যশোর। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। শহরের প্রধান কয়েকটি স্থান পৌরপার্ক, টাউন হল ময়দান, কালেক্টরেট পার্ক এবং নবকিশালয় বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ সজ্জার কাজও শেষ পর্যায়ে। চলছে নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক, যাত্রার মহড়া। মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য মুখোশ তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা।
পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংগঠনগুলোর কর্মীরা বিলি করছে নান্দনিক সব দাওয়াত পত্র। পহেলা বৈশাখের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। যতদূর জানা যায়, ১৯৮৫ (বঙ্গাব্দ ১৩৯২) সালে যশোরে পহেলা বৈশাখের মঙ্গলযাত্রার সূচনা হয়। যশোরে চারুপীঠের প্রতিষ্ঠাতা মাহবুব জামাল শামীম ও তার সহযোগী শিল্পীদের হাত ধরে এর সূচনা হয়।
আরও পড়তে পারেন:
এবার ‘জাঙ্গল বুক-টু’ তৈরির পালা
মাহবুব জামাল শামীম বলেন, ‘চারুকলার সব শাখাকে সামাজিকায়নের লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। প্রশাসনসহ যশোরের সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহযোগী হিসেবে পাশে এসে দাঁড়ায়। ১৪০০ বঙ্গাব্দের মঙ্গল শোভাযাত্রা মহীরূহ আকার নেয়। সে বছর থেকেই হাজার হাজার মানুষ বর্ণিল সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে শুরু করে।’
তিনি জানান, এবারই প্রথম চারুপীঠের কর্মীরা শোভাযাত্রার মধ্যে শহরের তিনটি স্পটে উৎসব নৃত্য পরিবেশন করবে। তার প্রস্ততি নিতে সংগঠনের কর্মী সংগঠকরা কর্মব্যস্ত দিন পার করছেন। চারুপীঠ এরইমধ্যে তৈরি করেছে বিশালাকার মোরগ। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অনেক কাহিনিতে মোরগের উপস্থিতি রয়েছে। সে লক্ষ্যে এবার মোরগকেই ফোকাস করা হয়েছে। এছাড়াও বাঘ, হাতি, পেঁচা, শালিক, ঘোড়া ইত্যাদির মুখোশ নিয়ে শোভাযাত্রাকে আকর্ষণীয় করার কাজ প্রায় শেষ বলে জানালেন তিনি।
যশোরে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান শুরু হবে ভোর ছয়টা ৩১ মিনিটে পৌরপার্কে উদীচী যশোরের উদ্যোগে। এছাড়া শহরের নানা প্রান্তে নানা সংগঠনের পৃথক আয়োজন থাকবে। অনুষ্ঠান চলবে রাত পর্যন্ত।
পহেলা বৈশাখে রাজধানীর পর এখনও দেশের সবচেয়ে বড় আয়োজন হয় যশোরে। বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানে প্রিয়জনের সঙ্গে শরিক হয় উৎসবপ্রিয় হাজারো মানুষ। প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে লুচি-সবজির পাশাপাশি মিষ্টিমুখে আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের।
গত কয়েক বছরের মতো এবারও বিবর্তন যশোর ও সুরধণী যৌথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নবকিশলয় স্কুলে। স্পন্দন যশোর শহরের চারখাম্বা মোড়ে আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এছাড়া নন্দন যশোর, তির্যক যশোর, সাহিত্য পরিষদ, কিংশুক, মাইকেল সংগীত একাডেমি, চারুতীর্থ, শেকড়, সপ্তসুর পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নতুন পোশাক। যশোরের মানুষ সাধারণত স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি পোশাকই বেশি ব্যবহার করে থাকে বলে জানালেন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘ফোঁড়’-এর কর্ণধার মামুনুর রশিদ। এবারও বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, নতুন বছরকে বরণ করতে তোরণে তোরণে ছেয়ে গেছে যশোর শহর। শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোভা পাচ্ছে সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতা আর বহুজাতিক কোম্পানির রং-বেরঙের তোরণ। যেন রঙের উৎসব লেগেছে।
বর্ষবরণ নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসপি আনিসুর রহমান। পুলিশ সদস্যরা পহেলা বৈশাখের দিন ব্যস্ত থাকবে বলে তাদের জন্য পরদিন পুলিশ লাইনে আয়োজন করা হয়েছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
আরও পড়তে পারেন:
'ওয়াসার পানি বিক্রি করা যাবে না’
/জেবি/








