পাখির খাবার নাকি মানুষেরও? ডিমের চরের ‘ধানসী’ ঘিরে কৌতূহল

খুলনা প্রতিনিধি
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৩ আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৩

ডিমের চর। সুন্দরবনের শেষ সীমানা, আবার সাগরের মোহনা। বিশাল এই চরে রয়েছে সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ, মদনটাক পাখি, বনমুরগিসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী। চরজুড়ে আছে লাল কাঁকড়ার বসতি। এই চরেই প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে অতিমাত্রার লবণসহিষ্ণু ধান। পাখিরা খায় এই ধান। ধান পেকে মাটিতে পড়ে। পরে প্রাকৃতিক পরিবেশেই তা থেকে নতুন গাছ জন্মায়, ফলে আবারও ধান হয়। এভাবে বিস্তৃত হতে হতে এখন প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই ধান।

তবে সাগরে যাওয়া জেলেরা জানেন না, এই ধান মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না। পাকা ধান টিপলে তা থেকে দেশি ধানের মতোই চাল বের হয়। এই ধান নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। 

অধিদফতরটি জানিয়েছে, এটি লবণসহিষ্ণু জাতের ধান। তবে এর উৎপাদন হার খুবই কম। এখন দেখা দরকার, এই ধান মানুষের খাদ্য হিসেবে কতটা উপযোগী এবং অতিমাত্রার লবণাক্ত পানিতে জন্মানো এই ধানের চালে পুষ্টিগুণ কতটা রয়েছে। পাশাপাশি, এই লবণসহিষ্ণু জাত থেকে নতুন কোনও জাত তৈরি করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই ধানের শীষ তুলনামূলকভাবে লম্বা ও সরু। দানার বেশিরভাগই লম্বাটে। কিছু দানা বা খোসার রং হালকা বাদামি-খয়েরি। গাছটি প্রাকৃতিকভাবেই লবণাক্ত পানি ও পরিবেশে বেড়ে উঠছে।

সমুদ্রগামী জেলেরা জানান, তারা অনেক বছর ধরেই এই ধান হতে দেখছেন। হাতে নিয়ে টিপেও দেখেছেন। কাঁচা অবস্থায় চাষ করা ধানের মতোই এতে দুধ আসে। পাকা ধান থেকে চালও হয়। কিন্তু তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা তাদের জানা নেই।

ডিমের চর সুন্দরবনের অংশ। তাই সেখানকার ধান কেটে নেওয়ার কথা ভাবাও আইন লঙ্ঘনের শামিল। এই ধান পাখির খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশেই জন্মাচ্ছে। সাগরের মোহনার অতিমাত্রার লবণাক্ত পরিবেশে এমন ধানের জন্ম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় এই জাত চাষের উপযোগিতা যাচাই করাও প্রয়োজন।

কচিখালী স্টেশনের বন কর্মকর্তা চন্দন জানান, ডিমের চর বিশাল একটি চর। এই চরেই রয়েছে সুন্দরবনের অংশবিশেষ। এখানে তিনটি বাঘও আছে। হরিণ রয়েছে অজস্র। ডিমের চর পাখির রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এই চরেই স্রষ্টার কৃপায় জন্মাচ্ছে লবণসহিষ্ণু ধান। তারা একে ‘ধানসী’ বলে থাকেন। এটি পাখির খাদ্য। চরের চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ধান প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়। তার ভাষ্য, ধানের সব ভ্যারাইটির বৈশিষ্ট্যই এই ধানে রয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্মানো এই ধান নিয়ে গবেষণা হলে ভালো হতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাগেরহাটের উপপরিচালক মোতাহার হোসেন বলেন, তিনি এখানে আসার পর এই ধান সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশেই ধান জন্মাচ্ছে। এটি লবণসহিষ্ণু ধান, শুধু লবণ নয়, অতিমাত্রার লবণও সহ্য করতে পারে। তবে ধানের উৎপাদন হার খুবই কম। পাখিরা এই ধান খায়। ইতিমধ্যে এই জাত সম্পর্কে ধান গবেষণা কেন্দ্রে তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই ধান মানুষের খাদ্য হিসেবে কতটা উপযোগী এবং এর পুষ্টিগুণ কেমন, তা জানার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, এই ধান নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে নতুন কোনও জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব কি না, তাও যাচাই করে দেখা হবে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রিফাত জাহান উষা বলেন, এটি তৃণজাতীয় উদ্ভিদ পরিবারের সদস্য। এই পরিবারের কোনও উদ্ভিদই প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর নয়। চাইলে যে কেউ এটি খেতে পারেন। তবে এর পুষ্টিগুণ কেমন বা স্বাদ কেমন, তা যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে।

জানা গেছে, এটি এক ধরনের বুনো ঘাস, যা দূর থেকে দেখতে অনেকটা সবুজ ধানক্ষেতের মতো। উদ্ভিদটি মূলত স্মুথ কর্ডগ্রাস বা স্পার্টিনা অল্টার্নিফ্লোরা প্রজাতির একটি বহুবর্ষজীবী বুনো ঘাস হতে পারে। এ ধরনের ঘাস সাধারণত উপকূলীয় লবণাক্ত জলাভূমি, মোহনা বা জলাশয়ের আশপাশের নিচু কাদামাটিতে প্রাকৃতিকভাবে ঘন আকারে জন্মায়। ধানের শীষ বা পাতার গঠনের সঙ্গে এর কিছুটা মিল থাকলেও এটি কোনও খাদ্যশস্য বা চাষযোগ্য ধান নয়।

/আরএইচ/
সম্পর্কিত
এশিয়ার এই রিভার সাফারি যেন আমাজনের জঙ্গল
সুন্দরবন থেকে ৬টি একনলা বন্দুক উদ্ধার
সুন্দরবনের বুকে দুবলার চর, যেখানে সমুদ্র আর জেলেদের গল্প একসঙ্গে
সর্বশেষ খবর
ভুল স্বীকার রাজকুমারের, বললেন ‘সব এআই দিয়ে হয় না’
ভুল স্বীকার রাজকুমারের, বললেন ‘সব এআই দিয়ে হয় না’
সাইকেল চালানোর নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব: অর্থমন্ত্রী
সাইকেল চালানোর নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব: অর্থমন্ত্রী
আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ জনের নিয়োগ, দ্রুত আবেদন করুন
আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ জনের নিয়োগ, দ্রুত আবেদন করুন
৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ছক ব্যাংকের ভেতরেই, কর্মকর্তাসহ গ্রেফতার ৬
৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ছক ব্যাংকের ভেতরেই, কর্মকর্তাসহ গ্রেফতার ৬
সর্বাধিক পঠিত
রংপুরে চার খুন: খেজুর-শসা-সিগারেট কারা খেয়েছিল নিশ্চিত করলো সিআইডি
রংপুরে চার খুন: খেজুর-শসা-সিগারেট কারা খেয়েছিল নিশ্চিত করলো সিআইডি
বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সেই মাহদীকে
বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সেই মাহদীকে
মন্ত্রী বললেন বাবা শোনো, বিক্ষোভকারী বললেন ‘এখানে দেশ বিক্রি হচ্ছে, ঢুকতে দেবো না’
মন্ত্রী বললেন বাবা শোনো, বিক্ষোভকারী বললেন ‘এখানে দেশ বিক্রি হচ্ছে, ঢুকতে দেবো না’
পূর্ণিমাকে দেওয়া কোন কথা রেখেছিলেন মান্না
পূর্ণিমাকে দেওয়া কোন কথা রেখেছিলেন মান্না
১ কোটি ৬২ লাখ টাকায় ৪০ হাজার ইউনিফর্ম তৈরি কেএনএফের, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
১ কোটি ৬২ লাখ টাকায় ৪০ হাজার ইউনিফর্ম তৈরি কেএনএফের, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা